স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রাশিয়া এবং ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার তিনি ঘোর বিরোধী।
স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো দেশকে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। এমনকি রাশিয়ার ওপর থাকা বর্তমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেন আক্রমণের পর ২০২২ সালে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা ও উয়েফা। তবে ইনফান্তিনো মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞা কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বরং ঘৃণা ও হতাশা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা কিছুই অর্জন করতে পারেনি। আমি এটি তুলে নেওয়ার পথ খুঁজছি এবং প্রয়োজনে ফিফার সংবিধানে পরিবর্তন আনব যেন ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক কারণে কোনো দেশ নিষিদ্ধ না হয়।’
গাজা সংঘাতের কারণে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করা মানে ফুটবলের ‘পরাজয়’। যদিও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল ফিফা। এ প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করলে ট্রাম্প এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।’ তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোও ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে অনেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তবে ইনফান্তিনো এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যখন কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হচ্ছে না, তখন ফুটবলের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন নিয়ম হবে? তার মতে, এই বিভক্ত পৃথিবীতে ফুটবলই মানুষকে একত্র করার একটি মাধ্যম।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব