| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শহীদ মিনারে প্রথমবার দোয়া, অংশ নিলেন জামায়াত আমির

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬ ইং | ২০:০৬:৩২:অপরাহ্ন  |  ১৩১৩৭১২ বার পঠিত
শহীদ মিনারে প্রথমবার দোয়া, অংশ নিলেন জামায়াত আমির

স্টাফ রিপোর্টার: অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে এবার যুক্ত হলো নতুন একটি অনুষঙ্গ—শহীদ মিনারের বেদীতে দোয়া ও মুনাজাত। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার–এ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় আনুষ্ঠানিকভাবে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভাষা শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শহীদ মিনারে এ ধরনের দোয়ার আয়োজন এবারই প্রথম।

দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাকে অভ্যর্থনা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানসহ শহীদ দিবস আয়োজক কমিটির সদস্যরা। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কয়েক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি স্থান ত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বেরিয়ে যাওয়ার পর শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতীব নাজির মাহমুদ। তিনি উপস্থিত সবাইকে পশ্চিমমুখী হয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

দোয়ায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র আত্মার মাগফেরাতও কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও শহীদ বেদীতে দাঁড়িয়ে দোয়ায় শামিল হন। পরে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়েও আলাদাভাবে ফুল দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর পর্যায়ক্রমে তিন বাহিনীর প্রধানরা শ্রদ্ধা জানান। এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও শফিকুর রহমান–এর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা শহীদ মিনারে আসেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে তিনি এবারই প্রথম শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে। তার সঙ্গে ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আখতার হুসেইনসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শফিকুর রহমান নিজেই মুনাজাত পরিচালনা করেন। ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তিনি আলাদাভাবে দোয়া করেন। অতীতে এ দিনে ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন থাকলেও জামায়াত আমিরকে শহীদ মিনারে দেখা যায়নি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর এবারই প্রথম এ আনুষ্ঠানিকতায় তার অংশগ্রহণ ঘটে।

সব মিলিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও রাজনৈতিক উপস্থিতির সমন্বয়ে এবারের আয়োজন পায় নতুন মাত্রা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঐতিহ্যবাহী নীরবতা ও ফুলেল শ্রদ্ধার পাশাপাশি যুক্ত হলো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪