সিনিয়র রিপোর্টার: নীলফামারীর একটি কলেজে নিবন্ধনবিহীন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে,নিবন্ধনবিহীন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের এমপিও কেন বাতিল করা হবে না এবং নিবন্ধনধারী সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে কেন ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে না।
বুধবার (১১ মার্চ) এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া। পরে তিনি সাংবাদিকদের আদালতের আদেশের বিষয়টি জানান।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ–এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেলে কলেজের অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রভাষক মোছা. হালিমা খাতুন–এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।মাউশির সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই এ নির্দেশনা দেন।
অভিযোগকারী চাকরিপ্রার্থী জাকারিয়া হোসেন জানান, ইনডেক্সবিহীন এক প্রার্থীকে তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্তির চেষ্টা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০১০ সালের নিয়োগে নিবন্ধনধারী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও মোছা. হালিমা খাতুনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের পরিপন্থী।
এদিকে হালিমা খাতুন ২০১৫ সালে ইনডেক্স পরীক্ষায় অংশ নেন। তদন্ত দল আরও জানায়, ২০১৪ সালের নিয়োগসংক্রান্ত মূল খাতা, আবেদনপত্র ও ফলাফল শিট কলেজ কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, ২০১০ ও ২০১৫ সালের নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও কলেজে সংরক্ষিত নেই।
পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থী জাকারিয়া হোসেন হাইকোর্টে রিট করলে আদালত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে রুল জারি করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি