আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে সাপ ও কুমিরের মতো সরীসৃপ ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ভারত। প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তবর্তী নদীপথ ও জলাভূমি অঞ্চলে এ ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দা ফেডারেল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রথম এ বিষয়ে আলোচনা হয়। যেসব দুর্গম সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা সম্ভব নয় বা কার্যকর নয়, সেসব ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অংশে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরির অংশ হিসেবে এই ধারণা সামনে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আগে থেকেই ড্রোন নজরদারি, জিপিএস-ভিত্তিক ট্র্যাকিং এবং থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিদ্যুতায়িত ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। তবুও নদী ও জলাভূমি অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় বিকল্প পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছে।
বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে আরও একটি পর্যালোচনা সভা হয়। সেখানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাস্তবতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে মতামত চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি