| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানে ট্রাম্পের হামলাকে ভুল মনে করেন ৬১ শতাংশ মার্কিনি

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০২, ২০২৬ ইং | ১৭:৫২:২৮:অপরাহ্ন  |  ৯৪৬ বার পঠিত
ইরানে ট্রাম্পের হামলাকে ভুল মনে করেন ৬১ শতাংশ মার্কিনি

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: ইরানের সাথে বিদ্যমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন জনমতের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিফলন ঘটেছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়। এবিসি নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোস-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৬১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, যা বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুসৃত কঠোর নীতিমালার বিপরীতে জনমতের এক উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।

পাশাপাশি ৬৫ শতাংশ মানুষ এটি বিশ্বাস করেন না যে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে কোনো চুক্তি হলেও তা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে পারবে। মার্কিন নাগরিকরা ইরানের বিষয়ে দেশটির পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে স্পষ্টত দ্বিধাবিভক্ত। বিশেষ করে, এই সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে যেইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে মার্কিন জনমানসে গভীর বিভাজন ও সংশয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সমীক্ষায়  অংশগ্রহণকারী ৪৮ শতাংশ নাগরিক মনে করেন আমেরিকার উচিত ইরানের সাথে একটি শান্তি চুক্তি করা, এমনকি যদি সেই চুক্তি আমেরিকার জন্য প্রতিকূল হয়। অন্যদিকে ৪৬ শতাংশের মতে ইরানের ওপর আরও ভালো চুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করা উচিত, যার জন্য প্রয়োজনে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে হলেও তারা পিছপা হতে রাজি নন।  

এই সমীক্ষায় সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত বলরুম নির্মাণ, ওয়াশিংটন ডিসিতে ২৫০ ফুট উচ্চতার খিলান স্থাপন এবং কাগজের নোটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর মুদ্রণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে জনমত যাচাই করা হয়েছে। মোট ২,৫৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়, যেখানে ইপসোস তাদের ‘নলেজ প্যানেল’ ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের উপ-প্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন যে আমেরিকা কোনো চুক্তি বা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে গণমাধ্যম-ভিত্তিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে তারা তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের তৈরি করা সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তিনি বর্তমান শর্তাবলীতে সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটেছে, যদিও তিনি ইরানকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একটি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের শুল্ক বা ফি প্রদান করা হলে সেই জাহাজ বা সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই নৌ-অবরোধকে ‘অসহনীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য যে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪