স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়া মৌজায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্মিত ৫৩৩ ফ্ল্যাট প্রকল্পের পশ্চিম পাশে বাউনিয়া মৌজার অধিগ্রহণকৃত সরকারি জায়গা ও রাস্তার ধারে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান শুরু হয়।
পল্লবী থানার সেকশন-৯ ব্লক-জি এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
বেলা আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা বস্তিবাসীদের একটি অংশ উচ্ছেদ অভিযানে নিয়োজিত পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা নিরাপদ স্থানে সরে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের জন্য রিকুইজিশন করা চারটি বাসের সামনের ও পাশের গ্লাস ভাঙচুর করে। হামলাকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলায় জড়িত পাঁচজনকে আটক করে। এরপর পুলিশের সহায়তায় পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ডিসি-মিডিয়া এন এম নাসিরুদ্দিন।
অন্যদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত, মাদক নির্মূল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে ডিএমপির মিরপুর বিভাগ বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
দিনব্যাপী এ অভিযানে মিরপুরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে মিরপুর থানার ২৪ জন, পল্লবী থানার ৩৬ জন, কাফরুল থানার ১৪ জন, শাহআলী থানার ১১ জন, দারুস সালাম থানার ১৪ জন, ভাষানটেক থানার ১০ জন এবং রূপনগর থানার ১১ জন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।