| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ব্যক্তি আবেদনে মিলবে সরকারি খাল খনন: ভূমি মন্ত্রণালয়ের

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২০, ২০২৬ ইং | ২১:২৫:২৯:অপরাহ্ন  |  ১০৯৫ বার পঠিত
ব্যক্তি আবেদনে মিলবে সরকারি খাল খনন: ভূমি মন্ত্রণালয়ের

ডেস্ক নিউজ: দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা দূর ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে আবেদনে মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খরচে সরকারি খাল পুনঃখনন করার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় । 

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন খালের নাব্যতা ফিরবে, অন্যদিকে উত্তোলিত মাটি ও বালি স্থানীয় উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।

বর্তমানে পানি সম্পদ বা কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতো সরকারি বিভিন্ন সংস্থা বড় বড় খাল খনন করলেও, বহু ছোট ও মাঝারি খাল এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই সমস্ত খাল খননে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর উপজেলা প্রকৌশলী ও কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে খাল পরিদর্শন করবেন এবং খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা ও মাটির পরিমাণ নির্ধারণ করে একটি নকশা বা প্রাক্কলন তৈরি করবেন। একই খালের জন্য একাধিক আবেদনকারী থাকলে লটারি বা আলোচনার মাধ্যমে খননকারী বেছে নেওয়া হবে। তবে খাল বড় হলে তা কয়েক ভাগে ভাগ করে একাধিক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়ার পর খননকারীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে এবং উত্তোলিত মাটি, বালি বা বর্জ্য খালের পাড় থেকে অন্তত ১০ মিটার দূরে সরিয়ে নিতে হবে। কাজ শেষে উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত খনন করা যাবে না। অতিরিক্ত খননের ফলে আশেপাশের জমি বা স্থাপনার ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট খননকারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং যেকোনো বিরোধের ক্ষেত্রে ইউএনও-র সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে সরকারি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাভুক্ত খালে ব্যক্তি উদ্যোগে খননের এই অনুমতি দেওয়া হবে না।

তবে এই নীতিমালার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, খননকৃত মাটি ও বালি খননকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারবেন, যার জন্য সরকারকে কোনো ফি দিতে হবে না। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে থাকবে। উপজেলা কানুনগো, সার্ভেয়ার এবং ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করবেন যাতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় না ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি গ্রামীণ এলাকার কৃষিজমির সেচ ব্যবস্থা ও বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তবে  বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ  সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ অবৈধ বালু ব্যবসা বা অতিরিক্ত মাটি কেটে পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনস্বার্থে জারি করা এই নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টার্স/ফয়সাল

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪