| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মুলিয়া খেয়াঘাট বরাদ্দে বিতর্ক, চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২১, ২০২৬ ইং | ২০:৩৭:১০:অপরাহ্ন  |  ৪১২ বার পঠিত
মুলিয়া খেয়াঘাট বরাদ্দে বিতর্ক, চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা

নড়াইল প্রতিনিধি: সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নড়াইলের মুলিয়া ইউনিয়নের মুলিয়া খেয়াঘাট স্থানীয় দুই মাঝিকে বরাদ্দ দেওয়ার বিনিময়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিকের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে মুলিয়া খেয়াঘাটে গিয়ে জানা যায়, মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা গ্রামের রতন বিশ্বাস সরকারি বিধি মেনে দীর্ঘদিন ধরে খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে যাত্রী পারাপার করতেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সরকারি কোনো নিয়ম অনুসরণ না করে প্রভাব খাটিয়ে তাকে ঘাট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ইউনিয়ন বিএনপির অফিস করার কথা বলে পানতিতা গ্রামের দীপক বিশ্বাস ও অংশ নামে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং তাদের ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো বিএনপি অফিস স্থাপন করা হয়নি।

খেয়াঘাটের সাবেক মাঝি রতন বিশ্বাস বলেন, “আমি গরিব মানুষ। সরকারি খাস জমিতে থাকি। এই ঘাটে নৌকায় যাত্রী পারাপার করে সংসার চালাতাম। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল। আমি দিতে না পারায় আমাকে ঘাট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”

বর্তমান মাঝি অংশ জানান, “মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক, চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাবসহ কয়েকজন নেতা বসে আমাকে ও দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দেন। পরে বিএনপি অফিস করার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আমাকে বাদ দিয়ে শুধু দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

মুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও ঘাট ইজারার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তুলে দীপক বিশ্বাস জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ডাকেন। তখন ইউনিয়ন পরিষদের ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা সংক্রান্ত কাগজপত্র ইউএনওর কাছে হস্তান্তর করি। পরে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের কয়েকজন বিএনপি নেতা বসে দীপক বিশ্বাসকে ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব দেন।”

জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব বলেন, নদীপাড়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে, সে জন্য কয়েকজন মিলে ওদের ঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপি অফিসের নামে চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক বলেন, “অফিস করার জন্য ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা এখনো আমার কাছেই আছে।” তবে বিএনপি অফিসের নামে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অর্থ নেওয়ার বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি “ঝামেলায় আছি” বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪