| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গাবতলী হাটে গরুর দামে ধস, অবিক্রিত পশু নিয়ে বিপাকে ব্যাপারীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৮, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৪:৫৫:অপরাহ্ন  |  ১৩২৭ বার পঠিত
গাবতলী হাটে গরুর দামে ধস, অবিক্রিত পশু নিয়ে বিপাকে ব্যাপারীরা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে ক্রেতা সংকট এবং পশুর অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে গরুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খামারি ও ব্যাপারীরা। অনেকেই লোকসানে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকে অবিক্রিত পশু ট্রাকে তুলে বাড়ি ফিরছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, একের পর এক ট্রাকে গরু উঠিয়ে ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যাপারীরা। কেউ আবার পরিবহন সংকটে হাটের ভেতর ট্রাকের খোঁজে ঘুরছেন।

মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি ৫০টি গরু হাটে এনেছিলেন, কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৮টি। বাকি পশু ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “এবার আমরা গরুর সঙ্গে নিজেরাও কোরবানি হয়ে গেছি।”

আরেক ব্যাপারী আব্দুস সাত্তার জানান, ৪০টি গরুর মধ্যে ২০টি অবিক্রিত রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ঈদের দুই দিন আগে যে গরুর দাম ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলা হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ঋণ করে পশু কেনায় বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্যাপারী ও খামারিদের অভিযোগ, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও কাদা জমে যাওয়ায় হাটে পশু রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতে গরুর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় এবং অনেকেই দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন।

কয়েকজন বিক্রেতা দাবি করেন, প্রতি গরুতে তাদের লাখ টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে। শেষ মুহূর্তের চাপেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকেই জানিয়েছেন, আগের তুলনায় এখন গরুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

ক্রেতা আবু নাঈম বলেন, যে গরুর দাম আগে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটি আমি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছি।

আরেক ক্রেতা পরাণ বলেন, ঈদের আগের দিন থেকেই দাম কমতে শুরু করায় সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক সুবিধা পেয়েছেন।

ব্যাপারীদের মতে, এবারের কোরবানির পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও শেষ সময়ে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় বাজারে দামের বড় পতন ঘটেছে। বুধবার ভোর থেকেই গরুর দাম কমতে শুরু করে।

ক্রেতা সাকিব আল আমিন খান বলেন, ভোর ৬টার দিকে হাটে এসে দেখি পর্যাপ্ত গরু আছে, কিন্তু দাম আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ছোট ও মাঝারি গরুর ক্ষেত্রে পতন বেশি দেখা যাচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ঈদুল আজহায় দেশে ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছিল। চলতি বছরে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ধরা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশু।

ফলে অতিরিক্ত সরবরাহ ও শেষ মুহূর্তের বাজার চাপে গাবতলীসহ দেশের বিভিন্ন হাটে দামের এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪