| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঢাকায় ৩০ ঘণ্টায় জোড়া দম্পতিসহ ১৩ লাশ

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৮, ২০২৬ ইং | ১৯:৩৬:৫৪:অপরাহ্ন  |  ৩৯০ বার পঠিত
ঢাকায় ৩০ ঘণ্টায় জোড়া দম্পতিসহ ১৩ লাশ

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনাসহ ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ঝরে গেল ১৩ জনের প্রাণ। এর মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে।

একই দিনে ভোরে ভাটারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন যাত্রী। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মিরপুর এলাকা থেকে দম্পতির লাশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে এবং দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। বাসচালক ও হেলপারদের পুলিশ খুঁজছে।

তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, নর্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ইসলাম পরিবহন ও আকাশ পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী।

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল ৬টা ৫ মিনিটের দিকে প্রগতি সরণির নর্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আজিজ সড়কের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, বরিশাল থেকে কুড়িল বিশ্বরোডগামী ইসলাম পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯৭০৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা সদরঘাটগামী আকাশ পরিবহনের একটি বাসকে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৭৪৩) সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ইসলাম পরিবহনের বাসটি উল্টে যায় এবং আকাশ পরিবহনের বাসটির ডান পাশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনাস্থলেই আকাশ পরিবহনের যাত্রী লাইজু বেগম (৩৮) নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খুশি বেগম ও রবিউলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত কবির জমাদ্দারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের মধ্যে কবির জমাদ্দার ও লাইজু বেগম স্বামী-স্ত্রী। খুশি বেগম তাদের আত্মীয় বলে জানা গেছে। নিহত ও আহত সবাই আকাশ পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে ইসলাম পরিবহনের বাসে অল্পসংখ্যক যাত্রী থাকলেও তাদের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

নিহতরা হলেন, লাইজু বেগম (৩৮) ও তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭)। কবিরের বাবার নাম আব্দুর রশিদ জমাদ্দার। তাদের বাড়ি মোংলা থানার উত্তর হলদিবুনিয়া এলাকায়। এ দুর্ঘটনায় নিহত অপরজন খুশি বেগম (৩৫)। তিনি মোংলা উপজেলার ভরবুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম সুলতান ফরাজি। জানা গেছে, তিনি নিহত দম্পতির আত্মীয়। 

আরেক নিহত রবিউল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মজিবর। তাদের বাড়ি ইয়ারউদ্দিন খলিফা সাহেবের মাজারের দক্ষিণ পাশে।

এদিকে আজ দুপুরের দিকে রাজধানীর মিরপুর দারুসসালাম হরিরামপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদ হৃদয় (২৫) ও ঝুম আক্তার (১৮) এই দম্পতির লাশ উদ্ধার করে দারুসসালাম থানা পুলিশ।

জানা যায়, আনুমানিক ২ থেকে ৩ বছর আগে তারা বিয়ে করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, পারিবারিক কলহের জেরে দুইজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঝুম আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত কুমার বিশ্বাস হরিরামপুরে দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন।

অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ হলের সামনে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ভবঘুরে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। পথচারীরা আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। নিহতের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।

হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা ছয় নবজাতকের মধ্যে একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এই মামলা করা হয়েছে। মামলায় অবহেলার কারণে শিশুর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ছয় নবজাতকের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার এই নবজাতকদের ময়নাতদন্ত করাতে চায়নি, সে কারণে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২৭ মে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে এই ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে অব্যবস্থাপনা ও এসি বন্ধ থাকার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪