স্টাফ রিপোর্টার: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি।
কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে সরকার যেমন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে, তেমনি কাঁচা চামড়া কেনা ও সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তার আড়তগুলোও। তবে নানা কারণে এবার পোস্তায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান, ব্যবসায়ী কমে যাওয়া এবং ট্যানারি মালিকদের সরাসরি চামড়া কেনার প্রবণতা বাড়ায় পোস্তায় আগের মতো চামড়া আসে না। একসময় ঈদের তিন দিনে যেখানে প্রায় তিন লাখ পিস চামড়া সংরক্ষণ হতো, এখন তা নেমে এসেছে দেড় লাখ থেকে এক লাখ পিসে।
এ বছর পোস্তার ব্যবসায়ীরা এক লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। এদিকে সরকার এবার লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহে ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্যও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গত কয়েক বছর ধরে সরকার চামড়ার দাম বাড়ালেও পোস্তায় কাঁচা চামড়া আসা কমে গেছে। আগে যেখানে ঈদের তিন দিন ৩ লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করা হতো সেখানে এখন ১ লাখ চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। তবে পোস্তায় পুরো মাস জুড়ে চামড়া সংরক্ষণ করা হবে। ঈদের ১৫ দিন পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চামড়া আসবে। তারপরও কোনো অবস্থায় যেন চামড়া নষ্ট না হয়, সেই প্রস্তুতিও নিচ্ছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদের দিন সকাল থেকেই চামড়া সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করবেন আড়তদারেরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারা বছরের চামড়ার প্রায় অর্ধেকই আসে কোরবানির ঈদের মৌসুমে। এজন্য কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে প্রস্তুত পুরান ঢাকা লালবাগের পোস্তার এখন প্রায় ৭০টি আড়ত রয়েছে। সবাই নিজ নিজ আড়দের ঘরগুলো পরিষ্কার করে প্রস্তুত রেখেছেন। একইসঙ্গে লবণ কিনে মজুদও করে রেখেছেন। ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত চলে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম। তাই এ সময়ের জন্য বাড়তি প্রস্তুতি রাখতে হয় তাদের। কারণ কোরবানির ঈদের দিন সকাল থেকেই চামড়া সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেন পোস্তার আড়তদারেরা। এদিন তারা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধকরিত দামে চামড়া কিনবেন।
জানা গেছে, সাধারণত কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানোর ৪ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। তা না হলে ওই চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ বছর চামড়া সংরক্ষণের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন আড়তদারেরা। তারা বলেন, চামড়া নষ্ট না হলে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। ফলে সব মিলিয়ে এ বছর চামড়ার বাজার গত কয়েক বছরের চেয়ে ভালো যাবে বলেই ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর এক কোটি পশুর কোরবানি হবে। তাই আগেই পর্যাপ্ত লবণও মজুত রাখা হয়েছে। এবার বৃষ্টির পাশাপাশি বেশ গরম পড়েছে। গরমের কারণে দ্রুত চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবার চামড়ার ভালো ব্যবসা হবে। তবে বৃষ্টির জন্য চামড়া নষ্ট না হয় সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করতর হবে। একই সঙ্গে ঈদের এক সপ্তাহ ঢাকাতে কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে না দিলে ভালো হয়। সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা যদি মানতে পারে তাহলে চামড়া নষ্ট হবে না।
চামড়া সংগ্রহে ট্যানারিগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, এ বছর দেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হতে পারে। এরমধ্যে প্রতিবছরই ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয় নানা কারণে। সে হিসেবে আমরা ৮০ থেকে ৮৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছি।
তিনি বলেন, সরকার এবার লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়িয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের দিন ঢাকায় অধিকাংশ চামড়া লবণ ছাড়া বিক্রি হলেও ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত চামড়া বিক্রি হয়। তবে এবার দরপতনের কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা মূলত ব্যবস্থাপনার বিষয়। তবে বৃষ্টির কারণে চামড়া সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা দরকার। পশু জবাইয়ের পর দ্রুত চামড়া ছাড়িয়ে সঠিকভাবে লবণ দিতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
ওয়েট ব্লু লেদার রপ্তানির অনুমতি না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শাহীন আহমেদ। তিনি বলেন, মূল্য সংযোজন বাড়ানোর জন্য ১৯৯০ সালেই ওয়েট ব্লু রপ্তানি সীমিত করা হয়েছিল। আবার যদি ওয়েট ব্লু রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে দেশের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান বলেন, আমাদাের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, শুধু কেনার অপেক্ষা। তবে পোস্তায় এখন আর আগের মতো চামড়া আসে না। গুদাম কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় গুদাম ভাড়া নিচ্ছেন। সেখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পুরোপুরি চালু না হওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকিও রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, চামড়ার বাজার কেমন যাবে সেটা বোঝা যাবে আজকে বিকাল থেকে। প্রতি বছরই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রির অভিযোগ ওঠে, বিশেষ করে রাতে সংগ্রহ করা চামড়ার ক্ষেত্রে। জবাইয়ের চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ দিতে না পারলে পচন ধরার ঝুঁকি থাকে। দিনের বেলায় দ্রুত সংরক্ষণ সম্ভব হলেও রাতে অনেক সময় বিলম্ব হয়। এতে চামড়ার মান কমে যায় এবং ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য দিতে চান না।
বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশরাফ উদ্দিন আহমদ খান বলেন, কোরবানি হওয়া পশুর চামড়া সংগ্রহে আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি নিয়েছি। কোরবানির পর পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে লবণ প্রয়োগের জন্য বিনামূল্যে লবন দেয়া হয়েছে। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে টানা তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিলে শিল্পাঞ্চলে যেন ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়েও জ্বালানি বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চামড়া খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। গত বছর ২০ শতাংশের বেশি চামড়া নষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারও অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে ঝুঁকি রয়েছে। সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে, অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।
পোস্তার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও মাহবুব অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আফতাব খান বলেন, সবার প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন শুধু কেনার অপেক্ষা। ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত লবণ কিনেছেন। লবনের কারিগরও ঠিক করা হয়েছে। কোরবানির পর পোস্তায় চামড়া আসার পর সবাই চামড়া সংরক্ষণ করতে পারবে। তবে গরমের জন্য একটু সমস্যা হতে পারে।
তিনি বলেন, সারা বছরের মোট কাঁচা চামড়ার প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশই আসে কোরবানির ঈদে। কোরবানির পর সাত থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিতে না পারলে চামড়ার মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অতিরিক্ত গরম, যানজট ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে প্রতিবছরই ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। তাই এই সময় চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সরকার মাদ্রাসাগুলোতে বিনা মূল্যে লবণ বিতরণ করেছে।
তিনি বলেন, এখন কোরবানির ৮০ ভাগ চামড়া ট্যানারি মালিকরা সরাসরি কিনে নেয়। পোস্তায় আসে মাত্র ২০ ভাগ চামড়া। এবছর ঈদের তিন দিন কাঁচা চামড়া আসে এক লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্দারণ করা হয়েছে। আর আমাদের কাছে লবণযুক্ত চামড়া আসে ২৫ থেকে ৩০ লাখ পিস এসব চামড়াই সংরক্ষণ করা হয়। এজন্য আমাদেরকে অনেক সাবধান থাকতে হয়। চামড়া আসার সাথে সাথে লবণ দিতে হয়।
আবতাফ খান জানান, ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের সঙ্গে বৈঠক করেই এবার চামড়ার দাম বাড়ানো হয়েছে। শুধু দাম বাড়ালেই হবে না, স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত চামড়া লবণজাত করতে হবে। ঢাকার বাইরের চামড়া স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দরপতন ও পচনের ঝুঁকি কমবে। তবে দ্রুত বেশি দামের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাইরের চামড়া ঢাকায় নিয়ে আসেন। এতে দীর্ঘ পথে পরিবহনের কারণে চামড়া নষ্ট হয় এবং বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বাণিজ্যমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। চামড়া যেন নষ্ট না হয় এবং দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যে সারাদেশে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে বাকি জুমায় দেশের সকল মসজিদে খতিব ও ইমামগণ যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন, তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির অধিক টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়।
এছাড়া কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ। প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার। বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ। স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান। পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ। অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কোরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এজন্য কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। সারাদেশে খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং সারা দেশে বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে ২২ লাখেরও বেশি। এ বছর চাহিদা এক কোটি এক লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর। এবার কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু ও মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল ও ভেড়া এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এই চামড়ার ৬০ ভাগের বেশি সরবরাহ মেলে কোরবানির মৌসুমে। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব