| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ব্রাজিলে বাড়ছে হতাশা, গাঁজার দিকে ঝুঁকছে তরুণ প্রজন্ম

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৫, ২০২৬ ইং | ১৬:০৪:৫৮:অপরাহ্ন  |  ১১৬০ বার পঠিত
ব্রাজিলে বাড়ছে হতাশা, গাঁজার দিকে ঝুঁকছে তরুণ প্রজন্ম

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সাম্বা, ফুটবল ও প্রাণবন্ত সংস্কৃতির দেশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। তবে এই উজ্জ্বল পরিচয়ের আড়ালে দেশটি বর্তমানে মোকাবিলা করছে এক গভীর সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকট। দেশটির তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা। আর সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকে সাময়িক মুক্তি খুঁজতে লাখ লাখ তরুণ ঝুঁকে পড়ছে গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের দিকে।

বিভিন্ন গবেষণা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলেই বিষণ্নতার হার সবচেয়ে বেশি। একইসঙ্গে উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকেও দেশটি বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক অস্থিরতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সুবিধার অভাবে অনেক তরুণ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না। ফলে হতাশা ও একাকিত্ব থেকে মুক্তির সহজ উপায় হিসেবে তারা গাঁজার দিকে ঝুঁকছেন। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, গত এক দশকে ব্রাজিলে গাঁজা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর বড় অংশই তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাঁজাসংক্রান্ত আইনি শিথিলতা এবং সহজলভ্যতার কারণে এর ব্যবহার আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বড় শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে গাঁজা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, গাঁজা মানসিক চাপ কমানোর স্থায়ী সমাধান নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক আবেগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত গাঁজা সেবন বিষণ্নতা, উদ্বেগ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আত্মহননের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

গাঁজার পাশাপাশি কোকেন ও ক্র্যাক কোকেনের বিস্তারও দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোকেন ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হওয়া ব্রাজিলে মাদককেন্দ্রিক অপরাধ, গ্যাং সহিংসতা এবং নিরাপত্তা সংকটও বাড়ছে। বিভিন্ন অপরাধী চক্র তরুণদের মাদক পরিবহন ও বিক্রির কাজে ব্যবহার করছে, যা তাদের অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শিত অবাস্তব জীবনধারা, পারিবারিক ভাঙন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তরুণদের মানসিকভাবে আরও দুর্বল করে তুলছে। পর্যাপ্ত মানসিক সহায়তা না পেয়ে অনেকেই মাদককে আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং সুবিধা বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো এবং কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তাদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তি সমস্যাকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে ব্রাজিলের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪