| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অতীতের তুলনায় কৃষিতে বৃহত্তম বাজেট দেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৮, ২০২৬ ইং | ১১:৪৮:২৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৫০৬ বার পঠিত
অতীতের তুলনায় কৃষিতে বৃহত্তম বাজেট দেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতের বাজেট গত বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৫৯ শতাংশ, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্বরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় ফল মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি বাজেটের ভেতরেও বিভিন্ন খাতভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে প্রণোদনা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যারা কৃষি খাতে বাজেট কমেছে বলে দাবি করছেন, তারা সঠিক হিসাব করেননি। বাস্তবে এবারের কৃষি বাজেট অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৃহত্তম।

তিনি বলেন, সরকার কৃষিকে আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, নতুন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দেশে ফল উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয় ফল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এক ধরনের বিপ্লব ঘটিয়েছে। যেসব দেশীয় ফল বিলুপ্তির পথে ছিল, সেগুলোকে নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব বিদেশি ফল একসময় আমদানি করতে হতো, সেগুলো এখন দেশেই উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বিদেশি ফল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে। আগামী বছর থেকে আরও কয়েকটি ফল আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ড্রাগন ফল প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, একসময় বাংলাদেশে ড্রাগন ফল আমদানি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে দেশের কৃষকরা সফলভাবে এই ফল উৎপাদন করছেন। এখন সরকার ড্রাগন ফল রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। আবহাওয়া ও উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় বাংলাদেশ এই ফল বিদেশে রপ্তানির উপযুক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি ফলের বিকল্প দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে কৃষকরা নতুন নতুন ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এবং দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

ফল রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আম ও কাঁঠাল রপ্তানি শুরু করেছে। চলতি বছর কাঁঠাল রপ্তানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফল রপ্তানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আব্দুর রহিমসহ কৃষি খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় দেশীয় ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল, ফলভিত্তিক প্রযুক্তি, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং কৃষি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। আয়োজকদের আশা, এ আয়োজন ফল চাষে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করবে এবং দেশের ফল উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪