রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা ইন্টারপোলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টারপোলের প্রকাশিত ওয়ান্টেড তালিকায় ৬০ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ও পলাতক মোট ৬ হাজার ৪৪৪ জনের নাম রয়েছে সংস্থাটির ওয়ান্টেড ডাটাবেজে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, রেড নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রকাশিত ওয়ান্টেড তালিকার তুলনায় আরও বেশি। কারণ নিরাপত্তাজনিত কারণে সব রেড নোটিশধারীর পরিচয় সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না। তবে এসব রেড নোটিশ ইন্টারপোলের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেটওয়ার্কে সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়।
ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হলেও তার নাম প্রকাশিত ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি যাতে সহজে গা-ঢাকা দিতে না পারেন কিংবা তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেজন্য অনেক ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ করা হয় না।
প্রকাশিত তালিকায় থাকা বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা চেষ্টা, মানবপাচার, জালিয়াতি, মুদ্রা জালকরণ, অস্ত্র, পর্নোগ্রাফি, অর্থ তছরুপ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজছে।
তালিকায় থাকা কয়েকজন বাংলাদেশিকে খুঁজছে সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইসওয়াতিনি ও বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশ। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, চোরাচালান, যৌন নির্যাতন, অস্ত্র অপরাধ, আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে খোঁজা হচ্ছে একাধিক হত্যা মামলার আসামি, মানবপাচারকারী, অস্ত্র মামলার অভিযুক্ত, জালিয়াতি ও নির্যাতনের মামলার পলাতকদের। এদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার বহু আলোচিত ও চিহ্নিত আসামিও রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মানবপাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ইন্টারপোল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে পলাতক অপরাধীদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন বর্তমানে বিশ্বের ১৯৬টি দেশের সদস্যভুক্ত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন, পলাতক আসামিদের সন্ধান, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকে ইন্টারপোল।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম