রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার আগে সীমান্তের অরক্ষিত এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সরকার গঠনের পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএসএফের হাতে ধাপে ধাপে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১২০ একর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও প্রায় ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপির দাবি, প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তবে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিএসএফের জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মুর্শিদাবাদের জেলাশাসকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি বিষয়টি তুলে ধরে।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৩১ মে মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী ডোমকল মহকুমার জলঙ্গি ব্লকের ঘোষপাড়া-সর্বপল্লী ভূতগাড়ি এলাকার তিন ফসলি কৃষিজমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে বিএসএফ লাল পতাকা দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় কৃষকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ভূতগাড়ি মাঠসংলগ্ন সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলঙ্গি থানার পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে সেখানে গেলে কৃষকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষিজমি দখল না করার মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ঘটনার তিন দিন পর এপিডিআরের একটি প্রতিনিধিদল এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। সংগঠনটির দাবি, স্থানীয় কৃষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তারা কোনো অবস্থাতেই জমি বিক্রি করতে রাজি নন, এমনকি ক্ষতিপূরণের বিনিময়েও নয়। তাদের বক্তব্য, বিএসএফ কৃষিজমি ছেড়ে অন্যত্র ক্যাম্প স্থাপন করুক। কৃষকদের দাবি, এই জমিতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে চাষাবাদ করে আসছেন এবং পাশের গ্রামের কৃষকরাও জমি দিতে রাজি নন।
তথ্যানুসন্ধান দলের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এপিডিআর জেলাশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে দাবি করেছে, কৃষকদের সম্মতি ছাড়া তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা পশ্চিমবঙ্গের ভূমি অধিগ্রহণ আইন এবং সংবিধানের পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রতিবাদী কৃষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ ভূমিকারও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।
এপিডিআরের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় হোল্ডিং সেন্টার বা ডিটেনশন সেন্টার স্থাপন এবং সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় বিএসএফের বিশেষ ক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
চিঠিতে সংগঠনটি তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরে। প্রথমত, কৃষকদের সম্মতি ছাড়া জলঙ্গির সর্বপল্লী-ভূতগাড়ি এলাকার তিন ফসলি জমি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষকে পুশব্যাক এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশি হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পরই কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো যেতে পারে। তৃতীয়ত, মুর্শিদাবাদে গড়ে ওঠা সব হোল্ডিং বা ডিটেনশন সেন্টার বন্ধ এবং সেখানে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
এপিডিআরের মতে, সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে দীর্ঘদিন আটক রাখা দেশের আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তাই হোল্ডিং সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি