| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৬০ দিনে চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের হুমকি ট্রাম্পের

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২১, ২০২৬ ইং | ২০:২৪:১৯:অপরাহ্ন  |  ৩৭৬ বার পঠিত
৬০ দিনে চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের হুমকি ট্রাম্পের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে টোল বা শুল্ক আরোপ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই হুমকির মাঝেই জলপথটির নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, “যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ৬০ দিন বা তার পরেও এই প্রণালিতে কোনও টোল দিতে হবে না। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে টোল আরোপ করবে।

ক্যাম্প ডেভিডে ছুটির সময় কাটানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “চুক্তি সম্পন্ন না হলে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ বা অভিভাবক হিসাবে যে পরিষেবা যুক্তরাষ্ট্র অতীতে দিয়েছে, এখন দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দেবে, তার খরচ তুলতে টোল আরোপ করা হবে।”

এই পরিষেবা বলতে ট্রাম্প সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে সাহায্য করছে।

তার দাবি অনুযায়ী, জুন মাসের শুরুতে একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে ওই জলপথ দিয়ে ২০০টিরও বেশি জাহাজে করে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান সংঘাতে এটিই ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান শক্তি।

এর আগে ইরানের দফায় দফায় অবরোধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল এবং গত এপ্রিলের শেষের দিকে অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড ভেঙে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল।

দুই দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার খবরের পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল।

শনিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস উইকেন্ড’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই জলপথ দিয়ে পার হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট আমাদের যে বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলেছিলেন, তার একটি ছিল এই প্রণালিটি খুলে দেওয়া। সেটি এখন সম্পন্ন হয়েছে।”

তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র মিলেছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের ঘোষণায়। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় তারা এই নৌপথটি আবারও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার স্মারকপত্রের প্রথম অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন না করে স্পষ্ট চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি পক্ষ প্রতিনিয়ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে। এর জবাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হল।

অবশ্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই রোববার থেকে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের প্রাথমিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কাঠামো অনুযায়ী, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির শর্তগুলো চূড়ান্ত করতে দুই দেশ ৬০ দিন সময় পাবে। দুই পক্ষ সম্মত হলে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

তবে ট্রাম্প একে কোনও ‘কঠিন সময়সীমা’ হিসেবে দেখছেন না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যতক্ষণ তারা ঠিকঠাক থাকছে, ততক্ষণ এই সময়সীমা নিয়ে আমি সত্যিই তেমন পরোয়া করি না।” সূত্র: দ্য হিল

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪