| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে ঝুলিয়ে দেব: অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২১, ২০২৬ ইং | ২০:৩৩:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৩৫৬ বার পঠিত
তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে ঝুলিয়ে দেব: অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার

রিপোর্টার্স ডেস্ক: পুলিশের কেউ যদি গোপন তথ্য ফাঁস করেন তাহলে তাকেও শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেছেন খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান।

তার এই বক্তব্যের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, “দারোগা বা ইন্সপেক্টরকে বলার পর কোনো ইনফরমেশন যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি ইন্সপেক্টরকে ঝুলায় দেব, আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাব।”

রাশিদুল হাসান খান গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় এ বক্তব্য দেন। তবে ভিডিওটি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের হাতে খুন হয়েছেন ৮৯ জন। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড়ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়রা বলছেন, একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও আতঙ্কে তারা থানায় অভিযোগ করেন না। পুলিশ অভিযান চালালেও কেউ ধরা পড়ে না। এজন্য ওই এলাকার বিভিন্ন মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ।

সেই সভায় থাকা বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা বলেন, “এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। কে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার পর সন্ত্রাসীদের তারা জানিয়ে দেয়।”

তিনি বলেন, “সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছিলেন। তখন কয়েকজন অভিযোগ করেন, তথ্য দিলে পুলিশই আবার সেটা ফাঁস করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওই কথা বলেন।”

অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান বলেন, “খুলনার আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার বিকল্প নেই। জনগণ সহযোগিতা না করলে কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না। কিন্তু তাদের অভিযোগ সরাসরি আমাদের অফিসারদের দিকে। তাদের আশ্বস্ত করতে কিছু কথা বলেছি। আমি মূলত বোঝাতে চেয়েছি, তথ্য ফাঁস করলে কেউ নিস্তার পাবে না। তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সার্বক্ষণিকই মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। অপরাধীদের দমনে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে বেশির ভাগের কারণ চিহ্নিত করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে জড়িতদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের পর আসামিরা অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, এ কারণে অনেক সময় তদন্তে বিলম্ব হয়।”

পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ জানিয়ে শনিবার বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে লবনচরা থানার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, পুলিশ বাহিনীর সব সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে।

এতে বলা হয়, বিগত সময়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল, পেশাগত নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি।

বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত উক্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক সদস্য বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের উদ্বেগ ও মতামত প্রকাশ করেছেন।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় থাকলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধি-বিধান ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য পন্থা। পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় থাকলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধি-বিধান ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য পন্থা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪