| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষুব্ধ মস্কো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ বন্ধের দাবি

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৬, ২০২৬ ইং | ২১:৫৩:০০:অপরাহ্ন  |  ৬৪০ বার পঠিত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষুব্ধ মস্কো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ বন্ধের দাবি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় মস্কোসহ রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ রুশ কট্টরপন্থী ও জাতীয়তাবাদী মহল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি যুদ্ধ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা থেকে সরে আসারও দাবি উঠেছে।

তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসানে রাশিয়ার অনুকূলে কোনো কার্যকর সমঝোতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

রুশ জাতীয়তাবাদী মহলের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ণমাত্রার সামরিক সমাবেশ, কিয়েভের সরকারি প্রশাসনিক অঞ্চল ধ্বংস, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে হত্যার পরিকল্পনা এবং ইউরোপে ইউক্রেনের জন্য ড্রোন উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে হামলার দাবি জানানো হচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে চলতি মাসে ইউক্রেনের গভীরভূমিতে পরিচালিত ড্রোন হামলার পর এসব দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং ক্রিমিয়াসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ব্যাপ্তি ও কার্যকারিতা নিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশাল ভৌগোলিক এলাকা নিয়ে গঠিত রাশিয়া কীভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে এবং একইসঙ্গে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করবে, তা নিয়েও আলোচনা তীব্র হচ্ছে।

রুশ জাতীয়তাবাদী ধনকুবের কনস্তানতিন মালোফেয়েভ গত সপ্তাহে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর প্রশ্ন তোলেন, “আর কত কিছু ঘটলে আমরা সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু করব? যুদ্ধ মানে যেকোনো মূল্যে বিজয় অর্জন। ইউক্রেন সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করছে, তাহলে আমরা কেন নয়?”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পূর্বসূরিরা যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও মজুত করেছিলেন, আমরা কেন তা ব্যবহার করছি না?”

শান্তি আলোচনা থেকে সরে আসার দাবি

কিছু রুশ জাতীয়তাবাদী ভাষ্যকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক আচরণকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে মস্কোকেও আরও কঠোর সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি অনুসারী থাকা ‘অবসেসড বাই ওয়ার’ নামের একটি সামরিক ব্লগ ইউক্রেনের বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণের মাধ্যমে সেগুলোকে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা থেকে সরে এসে ইউক্রেন রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কৌশল গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী ব্লগার ইউরি বারানচিক দাবি করেন, “মস্কোতে নিয়মিত ড্রোন হামলা ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব ছিল না।” তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যেতে বাধ্য হওয়ার পর এখন অন্য কোনো ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান দেখাতে চাইছেন।

কট্টর অবস্থানের মধ্যেও সংলাপের পথ খোলা রাখছে ক্রেমলিন

ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট পুতিন এই ধরনের বক্তব্য সহ্য করলেও জাতীয়তাবাদী ব্লগারদের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই থাকতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব কট্টর বক্তব্য জনমনে প্রত্যাশা ও আবেগ বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত ক্রেমলিন কট্টরপন্থীদের দাবি মেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা থেকে সরে আসেনি। যদিও রুশ সরকারের তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেমন অগ্রগতি হয়নি এবং গত বছর আলাস্কায় অনুষ্ঠিত পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি ওয়াশিংটন বাস্তবায়ন করেনি।

পুতিন এখনো জাতীয়তাবাদীদের সবচেয়ে চরম প্রস্তাবগুলোর প্রতি সমর্থন জানাননি। তবে এপ্রিল মাসে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইউক্রেনের জন্য ড্রোন উৎপাদনকারী কারখানার ঠিকানা প্রকাশ করে, যা সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।

এ ছাড়া গত মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিয়েভের সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ‘নিয়মিত হামলা’ চালানোর ঘোষণা দেয়। এর পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানীতে হামলার মাত্রাও বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক হামলায় এক হাজার বছরের পুরোনো একটি মঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে আপাতত বর্তমান কৌশল নিয়েই আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট পুতিন। মঙ্গলবার সামরিক একাডেমির স্নাতকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, পূর্ব ইউক্রেনের কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে রুশ বাহিনী, যা ডনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইউরোপে রাশিয়াবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রভাব কমে আসছে এবং তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে।

পুতিনের ভাষায়, “যারা রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয়ের অবসান চায়, তাদের শক্তি বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪