স্টাফ রিপোর্টার: পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুকূল রায় পাওয়ায় ক্লোজড-এন্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ডকে ওপেন-এন্ড (বেমেয়াদি) ফান্ডে রূপান্তর বা অবসায়ন এবং বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর হয়েছে।
বিএসইসি মনে করছে, এ রায়ের ফলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কমিশনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সংস্কার কার্যক্রম আরও গতি পাবে।
জানা গেছে, পৃথক দুটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট যে স্থিতাবস্থা ও স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তা স্থগিত ও প্রত্যাহার করেছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিশনের পদক্ষেপ গ্রহণে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকছে না।
ইতোমধ্যে সদ্য প্রণীত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুসারে ক্লোজড-এন্ড স্কিমগুলোকে অবসায়ন অথবা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের বিষয়ে সব ট্রাস্টিকে নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিধিমালার কঠোর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড রূপান্তর বা অবসায়ন এবং বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আর কোনো বাধা নেই।
তিনি জানান, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার ৬২(২) ধারা এবং গত ৭ মে জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে পাঁচজন ইউনিটধারী রিট আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা জারি করলেও পরে সেটি স্থগিত করা হয়। এদিকে বিধিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ৯ ও ১১ জুন ট্রাস্টিদের কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি।
আবুল কালাম আরও বলেন, বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর যে স্থগিতাদেশ ছিল, তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিশনের আইন বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তার ভাষ্য, কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। বর্তমান কমিশন সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। আদালতের সাম্প্রতিক রায়ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের অনুকূলে গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি