রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনের বৈঠক শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সঙ্গে ঐকমত্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, যা প্রধানমন্ত্রী তার উদ্যোগের মাধ্যমে শুরু করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বিদেশ সফর শেষে বিমানবন্দরে বিপুল জনসমাগমে সংবর্ধনা নেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা পরিহার করে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক আচরণ ও মানদণ্ড স্থাপন করেছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের কূটনৈতিক দিক তুলে ধরে তিনি জানান, এই সফরের মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা। তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতাই এই সফরের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না।
সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বড় একটি সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে সফরে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সফরের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কৃতিই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্পর্কের রূপরেখাও আরও সুস্পষ্ট ও সুসংগঠিত হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সফর ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম