বাউফল (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আনিস ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শয্যাশায়ী হওয়ায় প্রতিবন্ধী সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবারটি এখন অন্ধকারে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
তিন বছর ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন আনিস। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও এক বছর আগে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তিনি মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত।
আনিস ছিলেন পুরো পরিবারের একমাত্র চালিকাশক্তি। তাঁর উপার্জনেই চলত স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ। বড় ছেলের বয়স ১৮ বছর, সে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলের বয়স ৯ বছর। আনিস অসুস্থ হওয়ার পর থেকে পুরো পরিবারের চাকা থমকে গেছে।
ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ার পর গত এক বছরে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে জমানো সব অর্থ ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে আজ তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। বর্তমানে অর্থাভাবে তাঁর চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, "আমি বাঁচতে চাই। আমার দুইটা সন্তানের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায়। বড় ছেলেটা প্রতিবন্ধী, ও তো নিজের খেয়াল নিজেই রাখতে পারে না। আমি না থাকলে এই পরিবারটার কী হবে? আমি সুস্থ হয়ে আবার ওদের পাশে দাঁড়াতে চাই।"
আনিসের স্ত্রী জানান, চিকিৎসকেরা বলেছেন, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা পেলে আনিসকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন বিপুল অঙ্কের টাকা, যা এই মুহূর্তে এই অসহায় পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
স্বামীর জীবন বাঁচাতে এবং সন্তানদের অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করতে দেশের সর্বস্তরের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন