| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাপাসিয়ায় মুরগির খামারের দূষিত বর্জ্যে ফসল নষ্টের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ৩০, ২০২৬ ইং | ১৫:৪৩:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৪৬৭ বার পঠিত
কাপাসিয়ায় মুরগির খামারের দূষিত বর্জ্যে ফসল নষ্টের অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একটি পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যের কারণে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ তুলে অবৈধ লেয়ার ও পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় মো. শরিফ বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের অভিযোগ, পোল্ট্রি খামারি ইকবাল হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে একটি লেয়ার খামার পরিচালনা করছেন। খামারে প্রায় ১০ হাজার ডিম উৎপাদনকারী মুরগি রয়েছে। খামারের বিষ্ঠা ও বর্জ্য পার্শ্ববর্তী বিলে ফেলে দেওয়ার কারণে আশপাশের কৃষিজমির ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. বাদল মীর বলেন, “পাশের বিলে আমার জমি রয়েছে। এক সময় এসব জমি খুবই উর্বর ছিল এবং ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ভালো ফলন হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে পোল্ট্রির বর্জ্যের কারণে জমির উর্বরতা কমে গেছে। এখন আগের মতো ফলন পাই না।”

কৃষক রিটন মিয়া বলেন, “বিলে আমার তিন বিঘা জমি রয়েছে। পোল্ট্রির বর্জ্যের কারণে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বলা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।”

হান্নান মীর বলেন, “পোল্ট্রির আশপাশের বিলে বহু কৃষকের জমি রয়েছে। বর্জ্যের কারণে বিলের পানি ও জমি দূষিত হয়ে গেছে। এতে ধান চাষসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।”

১৫ শতাংশ জমির মালিক কৃষক রায়হান বলেন, “আমরা কৃষিকাজ করেই সংসার চালাই। ফসল নষ্ট হওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপদে পড়েছি।”

কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, “দশ বছর আগেও জমিতে ভালো ধান হতো। এখন জমি ঘাসে ভরে যাচ্ছে। বিলে নামলে শরীর চুলকায়।”

নুরুল ইসলাম ও আনিস জানান, পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যের কারণে তারা প্রতিবছর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল মীর বলেন, “আমার তিন বিঘা জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রি ফার্মের দূষিত পানির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

কৃষক শরিফ মীর বলেন, “আমি দেড় বিঘা জমিতে কাঁঠাল, হলুদ, মরিচ ও ধানের চাষ করতাম। কিন্তু পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যের কারণে এখন আর আগের মতো ফলন পাচ্ছি না। আমাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।”

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম মীর। তিনি বলেন, “কৃষকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা অবিলম্বে সমস্যার সমাধান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানান।

তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে পোল্ট্রি খামারের মালিক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “আমার খামারটি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।”

কাপাসিয়া থানায় দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাকির হোসেন বলেন, “পুকুরে জমে থাকা পোল্ট্রির বর্জ্যের পানি নিচু জমিতে নেমে ফসলি জমির ক্ষতি করছে—এটি সত্য। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন।”

তিনি আরও বলেন, “পোল্ট্রির বর্জ্যের কারণে ফসলি জমির ক্ষতির বিষয়টি মূলত পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত। এ বিষয়ে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪