| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ট্রাম্পের চাপে লাল কার্ড তুলে নিলো ফিফা!

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৬, ২০২৬ ইং | ২০:৪৬:৩২:অপরাহ্ন  |  ৩৫২১ বার পঠিত
ট্রাম্পের চাপে লাল কার্ড তুলে নিলো ফিফা!

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহারণে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার আগে এক নজিরবিহীন ভূরাজনৈতিক ও ফুটবলীয় কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে জড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া মার্কিন তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ওপর থেকে স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

আর, এই অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো ফুটবলীয় যুক্তি নয়, বরং কাজ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি প্রভাব! মার্কিন সংবাদমাধ্যম- দ্য অ্যাথলেটিকের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করার পরই রাতারাতি বদলে গেছে ফিফার নিয়মকানুন, যা চলতি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ফিফার নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো সরাসরি লাল কার্ডের জন্য পরবর্তী ম্যাচে অটোমেটিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু বেলজিয়াম ম্যাচের ঠিক আগে ফিফা রহস্যজনকভাবে বালোগানের শাস্তি স্থগিত ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই ট্রাম্প উল্লাস প্রকাশ করে লেখেন, সঠিক কাজটি করার জন্য এবং একটি বড় অবিচারকে বদলে দেয়ার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ। পরবর্তীতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস নিশ্চিত করে, ট্রাম্প নিজে ইনফান্তিনোকে ফোন করে এই বিষয়ে ‘তদবির’ করেছিলেন।

শুধু একটি ফোন কলেই সীমাবদ্ধ ছিল না হোয়াইট হাউসের এই মিশন। মার্কিন সরকারের নির্দেশে একদল ঝানু আইনজীবী ইউএস সকার ফেডারেশনের সাথে হাত মিলিয়ে আইনি চাল চালেন। এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক, হোয়াইট হাউস ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্সের পরিচালক অ্যান্ড্রু গিউলিয়ানি এবং ধনকুবের বিনিয়োগকারী স্কট গুডউইন।

যেহেতু লাল কার্ডের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল আপিলের কোনো নিয়ম নেই, তাই ফিফা এক অদ্ভুত ও হাস্যকর পথ বেছে নেয়, তারা বালোগানের লাল কার্ড বহাল রাখলেও, তাঁর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাটি স্থগিত করে দেয়! মার্কিনদের মূল ওজুহাত ছিল, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি অতিরিক্ত স্লো-মোশন ও ফ্রিজ-ফ্রেম ব্যবহার করে রেফারিকে প্রভাবিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোর এই ‘দহরম-মহরম’ সম্পর্ক ফুটবল বিশ্বে তীব্র সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। কিছুদিন আগেই নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা তাদের নতুন অফিস খুলেছে এবং ট্রাম্পের অনুরোধে বিশ্বকাপের ড্রয়ের সময়সূচি পর্যন্ত ওলটপালট করা হয়েছিল।

বিনিময়ে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে বিশ্বকাপের আসল ট্রফির একটি রেপ্লিকা, স্মারক মেডেল এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের একটি প্রতীকী সার্টিফিকেট উপহার দিয়েছিলেন। ফিফার সংবিধানে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও, আমেরিকার স্বার্থে ইনফান্তিনোর এমন নতিস্বীকারে ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো।

ন্যাক্কারজনক এ সিদ্ধান্তে স্বভাবতই আগুন ঝরছে বেলজিয়াম শিবিরে। শেষ ষোলোতে আমেরিকার প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা ফিফার এই অনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি লড়াইয়ে যাচ্ছে। বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, আমার মনে হচ্ছে ফিফার কাছে পাঁচ জুলাই দিনটি বুঝি এপ্রিল ফুলে পরিণত হয়েছে! আমাদের ফেডারেশন ফুটবলের সততা ও নৈতিকতা রক্ষার জন্য লড়াই করবে।

অন্যদিকে, আমেরিকার আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো অবশ্য এই জ্বলন্ত উনুন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছেন। তিনি ঠান্ডা মাথায় বলেন, আমি বেলজিয়ামের অবস্থান বুঝতে পারছি, তবে আমার এই বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। মাঠের খেলা শুরুর আগেই ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক গোল দেয়ার চেষ্টা বেলজিয়ামকে বাড়তি তাতিয়ে দেবে নাকি হোয়াইট হাউসের আশীর্বাদপুষ্ট বালোগান বেলজিয়ামকে ধ্বংস করবেন, তা দেখার জন্য চড়ছে উত্তেজনার পারদ!

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪