| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হজ থেকে ফিরে ‘চাঁদাবাজি’, ওসি প্রত্যাহার

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১০, ২০২৬ ইং | ২১:০৬:০১:অপরাহ্ন  |  ২৯৪১ বার পঠিত
হজ থেকে ফিরে ‘চাঁদাবাজি’, ওসি প্রত্যাহার

সিলেট প্রতিনিধি: গত ফেব্রুয়ারিতে সিলেট জেলার ‘শ্রেষ্ঠ’ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খান। এরপর মে মাসে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। ফিরে যোগদানের মাত্র ২০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার হলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক স্বাক্ষরিত এক আদেশে কোম্পানীগঞ্জের ওসি শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রত্যাহার করে তাকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলামের প্রত্যাহারের পরই আলোচনা চলছে, চার মাসে আগে জেলায় শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার পাওয়া এবং মাত্র কদিন আগে হজ করে ফেরা ওসিকে কেন হঠাৎ প্রত্যাহার করতে হলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলার চোরাকারবারি ও পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে তিনি এসব কাজে সহযোগিতা করেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চাঁদাবাজির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু ও পাথর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে পুলিশের চাঁদা আদায়ের অভিযোগে কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

আব্দুল করিম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ৪ এপ্রিল ভাঙা পাথর লোড করার সময় আমার ট্রাক ধরে নিয়ে যান এসআই আমিরুল ইসলাম। গাড়ির মামলার চার্জশিটের জন্য খরচের কথা বলে ওসি শফিকুল আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। এর কিছুদিন পর ওসি হজে চলে যান। এরপর ভোলাগঞ্জ ফাঁড়িতে ইনচার্জ হয়ে আসেন এসআই নুর মিয়া। তিনি চার্জশিটের জন্য ২০ হাজার টাকা চাইলে আমি ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, ওসি শফিকুল ইসলাম টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। কালা মিয়া নামে এক আসামিকে ধরতে না পেরে তার মা ৭০ বছরের রূপজান বিবিকে ধরে এনে হাজতে বন্দি এবং মামলার আসামিও করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসি শফিকুল ইসলাম খানের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির সরকারি ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ওসি (তদন্ত) কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গতকালের আদেশের পর আজ সকালে স্যার চলে গেছেন। এখনও নতুন কাউকে নিয়োগ করা হয়নি।’

হজ থেকে ফিরে ওসি শফিকুল ইসলাম কবে যোগদান করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার ১৫-২০ দিন আগে যোগদান করেছিলেন।’

এ বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, শফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪