বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন সভাপতি পদপ্রার্থী সেলিম রেজা। তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেলিম এরশাদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, আগামী ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি শুরু থেকেই একটি বিশেষ প্যানেলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে আসছে।
তিনি বলেন, একটি প্যানেল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পত্রিকায় নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে এবং নিয়মিতভাবে ভোটারদের নিয়ে ভোজসভার আয়োজন করছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করা হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে ভোটার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেলিম রেজার দাবি, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভোটারদের নিজ নিজ উপস্থিতিতে আইডি কার্ড সংগ্রহ করার কথা থাকলেও একটি প্যানেলের প্রতিনিধিরা দুই ব্যক্তির স্বাক্ষরে প্রায় ৬০০ ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্যানেলের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ভোটারদের তাদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে বলা হচ্ছে। বিষয়টি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নজরে আনা হলে প্রথমে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে রেজিস্টার যাচাই করে দেখা যায়, সভাপতি পদপ্রার্থী আতিকুর রহমান বাদলের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এবং একই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর স্বাক্ষরে এসব কার্ড উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় চেম্বারের অফিস সেক্রেটারির আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সেলিম রেজা। তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অফিস সেক্রেটারি মাসুদ রানা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
সেলিম রেজা বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও চেম্বারের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণে মনে হচ্ছে তারা একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে বিজয়ী করতে কাজ করছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বাতিল করে নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী এরশাদুল বারী এরশাদ ও মামুনুর রশিদ এবং পরিচালক পদপ্রার্থী মাহফুজুল হক, আব্দুল বাসেদ, রনি, মহররম আলী ও জর্জিস হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বা অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি