| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জুলাইয়ের স্মৃতি থাকবে তো গ্রাফিতি সংরক্ষণ নিয়ে ইবি প্রশাসন-ছাত্র সংগঠন মুখোমুখি

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৪, ২০২৬ ইং | ২০:৩১:১৭:অপরাহ্ন  |  ৯৩৪ বার পঠিত
জুলাইয়ের স্মৃতি থাকবে তো গ্রাফিতি সংরক্ষণ নিয়ে ইবি প্রশাসন-ছাত্র সংগঠন মুখোমুখি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে আঁকা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন গ্রাফিতি সংরক্ষণ ও ফটকের সৌন্দর্যবর্ধন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি গ্রাফিতিগুলো ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করে বর্তমান ফটকের আদলে একটি স্থায়ী রেপ্লিকা নির্মাণ করা হবে। সেখানে পুনরায় এসব গ্রাফিতি অঙ্কন করে সংরক্ষণ করা হবে। তবে জুলাই মাসেই এসব গ্রাফিতি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন।

আগামী ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধান ফটকের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এ নিয়ে রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের একাধিক বৈঠক হয়।

বৈঠকে শাখা ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র ইউনিয়ন শর্তসাপেক্ষে গ্রাফিতি সংরক্ষণ করে রেপ্লিকা তৈরির প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। তবে ইসলামী ছাত্রশিবির বর্তমান ফটকের জুলাই স্মৃতিচিহ্ন অক্ষত রাখার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।

শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরাই জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো এঁকেছেন। তাই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই তাদের অবস্থান হবে।

শাখা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করে ফটকের সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে তারা তা সমর্থন করবেন। তবে স্মৃতি মুছে ফেলা বা অবমাননা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, জুলাই মাসে কোনোভাবেই প্রধান ফটকের গ্রাফিতি নিয়ে কাজ করা উচিত নয়। আগে রেপ্লিকা তৈরি করে দেখানোর পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, গ্রাফিতি অপসারণের আগে যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এরপরই ফটক রঙ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার কোনো সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে যখন গর্ব করা হয়, তখন জুলাই মাসেই তা সরানোর উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে?”

ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, বর্তমান গ্রাফিতিগুলো সংরক্ষণ করে এরপর ফটক রঙ করা যেতে পারে। পাশাপাশি জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো বড় আকারে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।


এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। বরং এগুলো সংরক্ষণ করে স্থায়ী রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের মাধ্যমে গ্রাফিতিগুলো ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং বর্তমান প্রধান ফটকের আদলে একটি রেপ্লিকা নির্মাণ করে সেখানে জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্নগুলো রাখা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪