নড়াইল প্রতিনিধি: দক্ষ নার্স তৈরির লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল নড়াইল সরকারি নার্সিং কলেজ।কিন্তু প্রতিষ্ঠার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কাটেনি জনবল ও আবাসন সংকট। মাত্র একজন প্রশিক্ষক দিয়ে চলছে প্রায় দুইশত শিক্ষার্থীর পাঠদান। আবাসিক ভবন না থাকায় শ্রেণি কক্ষেই থাকতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের বৃত্তিও। ফলে নানান সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম।
নার্সিং কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে নড়াইল পৌর শহরের ভওয়াখালি এলাকায় জেলা হাসপাতালের সাথে মিশিয়ে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৯০ একর জমির প্রতিষ্ঠা করা হয় নড়াইল নার্সিং কলেজ। ২০২৩ সালে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। তবে এখনো অর্থনৈতিক কোড না পাওয়ায় কলেজটিতে কোনো পদ সৃষ্টি হয়নি। শুরুর দিকে অন্য কলেজ থেকে সংযুক্তিতে আসা অধ্যক্ষ ও চারজন প্রশিক্ষক থাকলেও বর্তমানে মাত্র একজন প্রশিক্ষক ও এক অফিস সহায়ক দিয়ে চলছে পুরো কলেজের কার্যক্রম। এতে পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশিক্ষকদের। চারটি ব্যাচের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছ।
তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা আবাসিক কোর্স চালু থাকলেও নেই কোনো আবাসিক ভবন। ফলে একাডেমিক ভবনের শ্রেণি কক্ষগুলোই এখন ছাত্রীদের গণরুম। আর বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে ছাত্রদের। ওপরদিকে তিন বছরেও চালু হয়নি শিক্ষার্থীদের মাসিক বৃত্তি। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। শুধু শিক্ষক সংকট নয়, কলেজটিতে নেই হিসাবরক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটর কিংবা ল্যাব অপারেটর। রাঁধুনি, দারোয়ান, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাকর্মীর মতো পদও দীর্ঘদিন ধরে শুন্যূ। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
দ্রুত কলেজের শিক্ষক সংকটসহ বিদ্যমান সকল সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে এবং পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে তাদের শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা দূর হবে এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
নার্সিং কলেজের একমাত্র শিক্ষক সুতপা শিকদার আক্ষেপ করে বলেন, নানান সমস্যায় জর্জরিত নড়াইল নার্সিং কলেজ। এর ভিতর জনবল সংকট সবথেকে বড় সমস্যা। প্রায় ২০০ ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ১০ জন শিক্ষক থাকার কথা আর সেখানে আছি আমি একা তাহলে বোঝেন কি অবস্থা কলেজের? তবে এই বিষয় গুলা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত আমরা নতুন শিক্ষক পাব।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, কলেজের জনবল, আবাসন ও অন্যান্য সমস্যার বিষয় গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কোডের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব