| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কুষ্টিয়ায় সিসিটিভি বন্ধ করে বিদ্যালয়ের রড-লোহার দরজা সরানোর অভিযোগ, তদন্তের দাবি

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৪, ২০২৬ ইং | ০০:১০:০৭:পূর্বাহ্ন  |  ৯৩৭ বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় সিসিটিভি বন্ধ করে বিদ্যালয়ের রড-লোহার দরজা সরানোর অভিযোগ, তদন্তের দাবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগর এলাকার আলাউদ্দিন আহমেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা প্রায় আধাঘণ্টা বন্ধ রেখে গুদামঘর থেকে প্রায় ১০ মণ পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব মালামালের বাজারমূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো থানা বা শিক্ষা কার্যালয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একাডেমিক ভবনের পাশে টিনশেড গুদামঘরে ভাঙা বেঞ্চ ও কিছু পুরোনো রড পড়ে রয়েছে। তবে গুদামের সামনে থাকা বেশ কিছু রড ও একটি লোহার দরজা সেখানে নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিব দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী ও একজন ভ্যানচালককে গুদামঘর থেকে রড বের করে ভ্যানে তুলতে দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও রাতের বেলায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পুরোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থীও দাবি করেন, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই সংযোগ ও সিসিটিভি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে তিনি ভ্যানে করে রড নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, সিসিটিভির ফুটেজে প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী ও একটি ভ্যান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপর প্রায় ৩০ মিনিট ক্যামেরা বন্ধ ছিল। পরে ভ্যানে করে মালামাল নিয়ে বের হওয়ার দৃশ্য দেখা গেলেও চালককে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন জানান, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া সিসিটিভির ফুটেজ দেখানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রড সরানোর সময় ক্যামেরা বন্ধ ছিল, তবে আগের ও পরের ফুটেজ সংরক্ষিত আছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে রাতে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নৈশপ্রহরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

অভিযুক্ত নৈশপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী বাড়িতে নেই এবং অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪