| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘সুপার এল নিনো’র দাপটে বিশ্বজুড়ে ৪.৫ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা, ভারতে প্রাণ হারাতে পারেন ১৫ হাজারেরও বেশি

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ইং | ০৫:৩৩:২০:পূর্বাহ্ন  |  ৪৩১৫ বার পঠিত
‘সুপার এল নিনো’র দাপটে বিশ্বজুড়ে ৪.৫ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা, ভারতে প্রাণ হারাতে পারেন ১৫ হাজারেরও বেশি

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : আমেরিকায় ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর গবেষণা প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। বর্তমানে সক্রিয় ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র দাবদাহের কারণে আগামী বছরের প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্ব বা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলো এই প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বড় শিকার হতে চলেছে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্ট-এর তাপমাত্রা ও সমুদ্রের বরফ সংক্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণটি তৈরি করা হয়েছে। 

বিজ্ঞানীদের মতে, এই বছরের এল নিনো মূলত আগামী ২০ বছরের জলবায়ু পরিবর্তনের একটি আগাম নমুনা তুলে ধরছে। ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) নিশ্চিত করেছে যে এল নিনোর তীব্রতা আগামী মাসগুলোতে আরও বাড়বে, যা বিশ্বজুড়ে চরম খরা, বন্যা ও রেকর্ড তাপমাত্রার জন্ম দেবে। আফ্রিকায় সাহেল অঞ্চলে প্রায় ৬৬,৮০০ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন সহ একাধিক দেশে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে প্রায় ১৫,৮০০ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে, যার ফলে ভারত বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশে পরিণত হবে। কেবল ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই তিন মাসেই আনুমানিক ৭,৪০০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মহারাষ্ট্রে সর্বাধিক ২,৬০০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,৫০০, তামিলনাড়ুতে ১,৬০০, কর্ণাটকে ১,৯০০, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরালায় ১,৭০০ করে এবং ওড়িশায় ১,০০০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বিশেষজ্ঞরা কেবল সরকারের সাধারণ ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করার চিরাচরিত পদ্ধতির বাইরে এসে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

‘হিটওয়াচ’-এর কার্যনির্বাহী পরিচালক অপেক্ষিতা ভর্ষণে জানিয়েছেন, ভারতে তাপদাহ জনিত অসুস্থতা এবং মৃত্যুর সঠিক নথিভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে জেলা স্তরের কাঠামোগত অভাব রয়েছে। হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যায় ভোগা রোগীরা চরম গরমে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তাকে সরাসরি ‘তাপজনিত মৃত্যু’ হিসেবে রেকর্ড করা হয় না।

তিনি পরামর্শ দেন, এই চরম তাপপ্রবাহকে কেবল আবহাওয়াগত সমস্যা হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য এবং শ্রম অধিকারের সংকট হিসেবে দেখতে হবে। বিশেষ করে নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর, হকার এবং কৃষি শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা, ছায়া ও পানীয় জলের ব্যবস্থা, কাজ বন্ধের সময় মজুরি রক্ষা এবং জেলা স্তরে সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪