| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জেলা প্রশাসন ও দুদকের তদন্তে ভুয়া, তবুও মিলছে সরকারি উপবৃত্তি

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৫, ২০২৬ ইং | ১৮:১২:৪৩:অপরাহ্ন  |  ১৫৫ বার পঠিত
জেলা প্রশাসন ও দুদকের তদন্তে ভুয়া, তবুও মিলছে সরকারি উপবৃত্তি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন ও জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পরও ঠাকুরগাঁওয়ের একটি কথিত মাদ্রাসার নামে সরকারি উপবৃত্তি ও অনুদান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘নতুনপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’ নামের এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের সরকারি সুবিধা বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১৯ নম্বর বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বেগুনবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এই কাগজসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানটি পুরাতন ও নতুন কোড ব্যবহার করে গত  কয়েক মাস ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছে। এর আগে জেলা প্রশাসন ও দুদকের পৃথক সরেজমিনে তদন্তে স্পষ্ট হয় যে, বাস্তবে এই নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই নেই। তা সত্ত্বেও বিগত কয়েক মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির নামে নিয়মিত সরকারি উপবৃত্তির অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ও দুদকের মতো দুটি দায়িত্বশীল সংস্থার তদন্তের ফলাফলকে উপেক্ষা করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে কীভাবে উপবৃত্তি প্রদান করা হলো, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও নাগরিকদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহার বন্ধে স্থানীয়দের পক্ষে সাদ্দাম হোসেন নামের এক নাগরিক ২২ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর এই আবেদন জমা দেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, 'এ বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ স্থানীয় গ্রামবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে দুদকের ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয় এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। তদন্ত শেষে দুদক গায়েবি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

অভিযোগ রয়েছে, দুদকের তদন্তে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশপ্রাপ্ত এবং সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমানের যোগসাজশে ভুয়া প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক মাস ধরে উপবৃত্তি সুবিধা পেয়ে আসছে। তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত একটি প্রতিষ্ঠানকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রকৃত ‘নতুনপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’ ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০২ সালে এটি দাখিল পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। সেই আসল প্রতিষ্ঠানের নাম ও কোড ব্যবহার করে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে একটি কৃত্রিম প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়। এ বিষয়ে আসল মাদ্রাসার শিক্ষকেরা থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪