| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশ ঘিরে বঙ্গোপসাগরে বড় শক্তির লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৭, ২০২৬ ইং | ২২:৫৩:২৯:অপরাহ্ন  |  ৪৫৭ বার পঠিত
বাংলাদেশ ঘিরে বঙ্গোপসাগরে বড় শক্তির লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

রিপোর্টার্স ডেস্ক: বঙ্গোপসাগর এখন আর শুধু একটি সামুদ্রিক অঞ্চল নয়। এটি পরিণত হয়েছে ভারত মহাসাগরীয় ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার মঞ্চে।

দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের সংযোগস্থলে অবস্থান করা বাংলাদেশকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কোয়াড, এমনকি পাকিস্তানের নতুন কৌশলগত আগ্রহও।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রতিযোগিতায় কে এগিয়ে? নাকি বাংলাদেশই সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে?

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী। আর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রয়েছে ভারত।

চীন ধীরে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে উপস্থিতি তৈরি করেছে। তবে বাংলাদেশ চেষ্টা করছে, কোনো একটি পক্ষের বলয়ে না গিয়ে জাতীয় স্বার্থভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করতে।

বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব কেন এত বেশি?

বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক পথ দিয়ে পরিচালিত হয়। বঙ্গোপসাগর সংযুক্ত করেছে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যপথকে।

বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাব্য কেন্দ্র, বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সংযোগ তৈরি সম্ভব, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে স্থল ও সমুদ্র যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশ একটি ‘ভৌগোলিক সেতু’। এই কারণেই ঢাকা এখন শুধু অর্থনৈতিক অংশীদার নয়, বড় শক্তিগুলোর কাছে একটি কৌশলগত অংশীদার।

চীনের কৌশল: বন্দর, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বাংলাদেশে চীনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো অর্থনৈতিক উপস্থিতি। গত এক দশকে চীন পদ্মা সেতু রেল সংযোগসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে, শিল্পাঞ্চল ও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ গভীর করেছে।

চীনের কৌশল শুধু বাণিজ্যিক নয়, বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উপস্থিতি তৈরি করাও এর অংশ বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।

তবে বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে, চীনের সঙ্গে সহযোগিতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে, কোনো সামরিক জোটের অংশ হওয়ার জন্য নয়।

ভারতের হিসাব: নিকট প্রতিবেশী ও নিরাপত্তার প্রশ্ন

বাংলাদেশ ভারতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীদের একটি। ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা, মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প ইত্যাদি। ভারত চায় বঙ্গোপসাগরে এমন কোনো শক্তির আধিপত্য তৈরি না হোক, যা তার নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায়। বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত হিসাবকে প্রভাবিত করছে।

তবে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা।

মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এসবের মধ্যে রয়েছে—ওয়াশিংটন একটি ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ চায়। কোয়াডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল, নৌ নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।

বাংলাদেশকে ওয়াশিংটন চীনের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং একটি স্বাধীন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। সাম্প্রতিক সময়ে কোয়াড সামুদ্রিক নজরদারি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

কোয়াডের ভূমিকা: বাংলাদেশের জন্য সুযোগ না চাপ?

কোয়াড যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম। চীনের দৃষ্টিতে কোয়াড একটি প্রতিরোধমূলক জোট, অন্যদিকে সদস্য দেশগুলো এটিকে একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা কাঠামো হিসেবে তুলে ধরে। তবে বাংলাদেশ কোয়াডের সদস্য নয়। ঢাকার অবস্থান হলো, কোনো সামরিক জোটে না যাওয়া, সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখা এবঙ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

তবে ভবিষ্যতে কোয়াডের মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সহযোগিতায় বাংলাদেশ যুক্ত হতে পারে।

নীরব কিন্তু শক্তিশালী জাপান

বঙ্গোপসাগরের রাজনীতিতে জাপানের ভূমিকা অনেক সময় আলোচনার বাইরে থাকে। কিন্তু বাস্তবে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার। জাপান মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে যুক্ত। একই সঙ্গে অবকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নে বড় বিনিয়োগকারী। জাপানের কৌশল সামরিক প্রতিযোগিতার চেয়ে অর্থনৈতিক সংযোগ ও মানসম্মত অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার।

অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা

ভারত মহাসাগর থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান আগ্রহ হলো, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক স্থিতিশীলতা। কোয়াডের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের কৌশল

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সম্পদ হলো তার ভৌগোলিক অবস্থান। ঢাকার নীতি মূলত কোনো শক্তির প্রতিপক্ষ না হওয়া, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা, বঙ্গোপসাগরকে শান্তি ও উন্নয়নের অঞ্চলে পরিণত করা। বাংলাদেশ এখন ‘হেজিং ডিপ্লোম্যাসি’ অনুসরণ করছে, অর্থাৎ একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা ধরে রাখা।

তাহলে কে এগিয়ে?

বঙ্গোপসাগর ঘিরে যে ভূরাজনীতি চলছে, সেখানে বেশ কয়েকটি দেশ যুক্ত।  এরমধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভূরাজনীতিতে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে এগিয়ে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রয়েছে ভারত। নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই অঞ্চলে চীনের উত্থান ও প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক ও বঙ্গোপসাগর ঘিরে ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী। তারা এই অঞ্চলে নানাভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করছে।

বাংলাদেশের ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা

২০২৩ সালে ১৫টি লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা ঘোষণা করে। এতে উল্লেখ করা হয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সবার জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং সংলাপ ও বোঝাপড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। এসব লক্ষ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো—

=> ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মেরিটাইম বিষয়ক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিদ্যমান কাঠামোকে শক্তিশালীকরণ, যথা সমুদ্রে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আনক্লস, ১৯৮২-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন অনুসারে অবাধ সামুদ্রিক চলাচল ও কোনো দেশের ভূখণ্ড বা জলসীমার উপর দিয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিমান চলাচলের অধিকারের বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখা।

=> ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের সঙ্গে একযোগে আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ, শান্তিরক্ষা, শান্তি বিনির্মাণ এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে অর্থবহ ও আন্তর্জাতিক মূল্যবোধসম্পন্ন অবদান রাখা।

=> ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধসমূহ দমনে নীতি কাঠামো প্রণয়ন ও ব্যবহারিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়াসকে সমর্থন করা।

=> জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রবর্তিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা সম্প্রসারণ, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডার উপর অব্যাহত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বজায় রাখা; আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।

সমুদ্রে কেন নজর?

মার্কিন নৌকৌশলবিদ ও ইতিহাসবিদ আলফ্রেড থায়ের মাহান ১৮৯০ সালে তার বিখ্যাত বই ‘ইতিহাসে সমুদ্র শক্তির প্রভাব, ১৬৬০-১৭৮৩’-এ সমুদ্রশক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, যে দেশ সমুদ্র বাণিজ্য, নৌপথ এবং সামুদ্রিক সম্পদের ওপর যত বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার প্রভাব তত বেশি বাড়বে।

মাহানের তত্ত্ব ছিল, বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু স্থলভাগের সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী নৌবাহিনী, উন্নত যুদ্ধজাহাজ, বাণিজ্যিক নৌবহর এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ও ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ। তার ধারণা অনুযায়ী, সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে একটি দেশ বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় মাহানের সেই তত্ত্ব আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কারণ বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন এখনো সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি তেল, গ্যাস, খাদ্যশস্য, কাঁচামাল থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের বড় অংশই মহাসাগরীয় বাণিজ্যপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে।

একবিংশ শতাব্দীতে সমুদ্র শুধু বাণিজ্যের মাধ্যম নয়, বরং ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি দেশ সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারে, মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ কারণে ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর এখন বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের অবস্থানগত গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে পূর্ব এশিয়ায় জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে বন্দর ও সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার নামে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ভারতও তার 'SAGAR' (সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিয়ন) নীতির মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ফলে বর্তমান বিশ্বে সমুদ্র কেবল অর্থনৈতিক সম্পদের উৎস নয়; এটি শক্তি, নিরাপত্তা, কূটনীতি ও বৈশ্বিক আধিপত্যের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। যে দেশ সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে তার প্রভাবও তত বেশি হবে—আলফ্রেড মাহানের শত বছরের পুরোনো এই ধারণা আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রবিন্দু আর ‘হিমালয়’ নয়, ‘বঙ্গোপসাগর’ উল্লেখ করে এটির নেতৃত্ব দেওয়ার পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, ‘সরকার এমন পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সরকার দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্ব দিতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রবিন্দু আর হিমালয় না, কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বঙ্গোপসাগর। সেটা নেতৃত্ব দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বেড়েছে। ভবিষ্যতে এ গুরুত্ব আরও বাড়বে। ফলে বড় শক্তিগুলো এখানে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে, যা খুব স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, আমরা বিগত কয়েক বছর ধরে দেখছি, চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইন্দো-প্যাসিফিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণার মাধ্যমে তারা এ অঞ্চলে নিজেদের ও মিত্রদের প্রভাব ধরে রাখতে চায়। অতীতে যেমন আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগর বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল, এখন এশিয়া-কেন্দ্রিক বাণিজ্য বৃদ্ধির কারণে বঙ্গোপসাগরসহ ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে চীনের অর্থনৈতিক ভূমিকা একটি বড় নিয়ামক।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক ও বঙ্গোপসাগর ঘিরে যে ভূরাজনীতি রয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের প্রভাব রয়েছে। আমি মনে করি, এখানে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী। তারা এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করছে। আর চীনের প্রভাব উদীয়মান। আগামীতে এখানে চীনের প্রভাব বাড়তে পারে। সূত্র: বাংলা নিউজ

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪