নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে ফতুল্লা ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোর অন্তর্ভুক্তির দাবি। এবার সেই দাবির পক্ষে নিজেদের মতামত তুলে ধরতে জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি ও মতামত তুলে ধরেন এবং কোনো ইউনিয়নের আংশিক এলাকা নয়, পুরো ইউনিয়নকেই সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা দাবি জানান তারা।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশীপুর ও গোগনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে বক্তারা বলেন, ইউনিয়নের কিছু অংশ বা কয়েকটি ওয়ার্ডকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করলে একই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক সুবিধা নিয়ে বৈষম্য তৈরি হবে। তাই পুরো ইউনিয়নকে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্তও এসব ইউনিয়নের ক্ষেত্রে পূরণ হয়েছে।
গণশুনানিতে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, বিগত সরকারের আমলে গডফাদারদের কারণে ফতুল্লা থানা এবং গোগনগরে ভোটের সংখ্যা ১০০ জনের মধ্যে ৯০ শতাংশ ধানের শীষের ভোট। এজন্য তারা সুকৌশলে গডফাদাররা এটিকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে দেয়নি। এখন এটি কোনো গডফাদারের আমল না। আমি আশাবাদী যে জেলা প্রশাসক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে উঠবেন। এবং যে চারটি ধাপ পার হয়েছে, সেটি ফতুল্লা থানা এবং সদর থানার জনগণের পক্ষে রিপোর্ট যাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচটি ইউনিয়নে কোনো কৃষিজমি নেই বললেই চলে। এবং দেশের কোনো থানায় ফতুল্লা এবং গোগনগরে যতগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, অন্য কোথাও নেই। পাশাপাশি অবকাঠামোও রয়েছে। সিটিতে যুক্ত হতে যা যা প্রয়োজন কিছুই আছে। এবং জনগণের মত আছে। সুতরাং আমি মনে করি, সুকৌশলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটিতে গডফাদার নিজের পক্ষে ফলাফল নেওয়ার জন্য সেদিন তারা এটাকে সিটিতে যুক্ত হতে দেয়নি।
গণশুনানিতে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য ও মতামত থেকে প্রশাসন বুঝতে পেরেছে যে ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়ন এবং বন্দর উপজেলার একটি ইউনিয়নসহ মোট পাঁচটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার বিষয়ে জনমত রয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও সরেজমিন পরিদর্শনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইনসম্মতভাবে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসক বলেন, জনকল্যাণের সিদ্ধান্ত কখনোই তাড়াহুড়ো করে নেওয়া যায় না। সরকার সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। অনেকেই মনে করেন, প্রক্রিয়া শুরু হলেই দ্রুত এসআরও জারি হবে। কিন্তু বাস্তবে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিতর্কের সুযোগ না থাকে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব