| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সুস্থ ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৯, ২০২৬ ইং | ১১:৩৫:২৮:পূর্বাহ্ন  |  ২৪২ বার পঠিত
সুস্থ ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আমাদের ত্বক শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ এবং এটি বাইরের নানা ক্ষতিকর উপাদান থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য ত্বকের প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি। তাই শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, সুস্থ, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত ত্বকের জন্য ভেতর থেকেও সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের সুষম উপস্থিতি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা, স্থিতিস্থাপকতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ, কুঁচকে যাওয়া কিংবা বিভিন্ন ত্বকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

ত্বকের আর্দ্রতা ও নমনীয়তা বজায় রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাদাম, বিভিন্ন বীজ, অ্যাভোকাডো এবং সামুদ্রিক মাছ থেকে পাওয়া মনোস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ত্বককে সুস্থ ও টানটান রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এগুলো হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

ওমেগা-৩ শরীরে নিজে থেকে তৈরি হয় না, তাই খাদ্য থেকেই এটি গ্রহণ করতে হয়। এটি কোষের ঝিল্লি গঠনে সহায়তা করে, প্রদাহ কমায় এবং ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন কিছু রাসায়নিকের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত করতে ভূমিকা রাখে।

প্রোটিন

ত্বকের গঠন ও পুনর্গঠনের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। শরীর খাদ্য থেকে পাওয়া প্রোটিনকে অ্যামাইনো অ্যাসিডে রূপান্তর করে, যা কোলাজেন ও কেরাটিনসহ ত্বকের গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

এ ছাড়া অ্যামাইনো অ্যাসিড পুরোনো ত্বকের কোষ ঝরে যেতে সাহায্য করে এবং কিছু অ্যামাইনো অ্যাসিড শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলো অতিবেগুনি রশ্মি ও ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বকের কোষকে সুরক্ষা দেয়।

ভিটামিন এ

ত্বকের উপরের ও নিচের উভয় স্তরের জন্যই ভিটামিন এ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি কোলাজেন ভাঙার প্রক্রিয়া ধীর করে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে এটি রোদে পোড়া ত্বকের ক্ষতি কমাতেও সহায়ক।

এ ছাড়া ভিটামিন এ ত্বকের তেল গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন এ না থাকলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানিযুক্ত হয়ে যেতে পারে।

ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস হলো পালং শাক, আম, পেয়ারা, গরু ও মুরগির মাংস, মাছ, পনির এবং ডিম।

ভিটামিন সি

কোলাজেন উৎপাদন ও ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রাখতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব কমায় এবং ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসেও সহায়ক হতে পারে।

ভিটামিন সি-এর অভাবে সহজে কালশিটে পড়া, মাড়ি থেকে রক্তপাত এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

লেবুজাতীয় ফল, লাল ও সবুজ ক্যাপসিকাম, কিউই, ব্রোকলি, স্ট্রবেরি ও ব্রাসেলস স্প্রাউট ভিটামিন সি-এর সমৃদ্ধ উৎস।

ভিটামিন ই

ভিটামিন ই একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান। এটি অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং বলিরেখা, ত্বক ঝুলে যাওয়া ও অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

ভিটামিন সি-এর সঙ্গে মিলিতভাবে এটি কোষের প্রাচীরকে আরও শক্তিশালী করে।

ভিটামিন ই-এর ভালো উৎস হলো বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বীজ এবং উদ্ভিজ্জ তেল।

জিঙ্ক

জিঙ্ক ত্বকের ক্ষত দ্রুত সারাতে এবং নতুন কোষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি কোষের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে ত্বককে অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

জিঙ্কের ঘাটতি হলে একজিমার মতো চুলকানিযুক্ত ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ ময়েশ্চারাইজার বা স্টেরয়েড ক্রিমেও সহজে সারে না।

জিঙ্কের ভালো খাদ্য উৎসের মধ্যে রয়েছে ঝিনুক, লাল মাংস, মুরগি, সামুদ্রিক মাছ, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, গোটা শস্য এবং দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সুস্থতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে দামি প্রসাধনীর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪