| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

লেবাননে সাংবাদিক হত্যা করে ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৮, ২০২৬ ইং | ১১:২৪:২৬:পূর্বাহ্ন  |  ১০১৩ বার পঠিত
লেবাননে সাংবাদিক হত্যা করে ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
ছবির ক্যাপশন: নিহত সাংবাদিক আমাল খালিল

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় আল-আখবার পত্রিকার সাংবাদিক আমাল খালিল নিহত এবং ফ্রিল্যান্স ক্যামেরা অপারেটর জেইনাব ফারাজ গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে দুটি মানবাধিকার সংগঠন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২২ এপ্রিল আল-তিরি শহরে সংবাদ সংগ্রহের সময় ওই দুই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সংগঠন দুটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং লেবাননের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এখতিয়ার মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিবিসিকে তারা জানিয়েছে, তাদের চালানো তিনটি হামলার লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর দুই সদস্য।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, 'ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করে। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ বলছে, তারা বারবার সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। আমাল খালিল ও জেইনাব ফারাজ এমন হামলার দীর্ঘ তালিকার সর্বশেষ শিকার।'

মানবাধিকার সংগঠন দুটি জানিয়েছে, তারা আল-তিরির ঘটনার ছবি ও ভিডিও, ফারাজ ও উদ্ধারকর্মীদের সাক্ষ্য, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং লেবানিজ রেড ক্রসের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে পাঠানো একটি বার্তা পর্যালোচনা করেছে।

এইচআরডব্লিউর দেওয়া বর্ননা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে দুই সাংবাদিকের গাড়ির সামনে থাকা একটি গাড়িতে প্রথম ইসরায়েলি হামলা হয়। এতে তাদের পরিচিত আলি বাজ্জি ও মোহাম্মদ আল-হোরানি নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন।

হামলার পর খালিল ও ফারাজ তাদের গাড়ি ছেড়ে পাশের একটি ভবনের কাছে আশ্রয় নেন। তারা লেবানিজ রেড ক্রসের কাছে সহায়তা চান। পরে বিকেল ৩টায় লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউনিফিলের মাধ্যমে তাদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে আবেদন পাঠানো হয়।

এইচআরডব্লিউ জানায়, বিকেল ৩টা ২১ মিনিট থেকে ৩টা ৪২ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হামলায় সাংবাদিকদের পার্ক করে রাখা গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খালিল আহত হন। এরপর তারা ভবনটির ভেতরে আশ্রয় নেন। বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে তৃতীয় হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়।

হামলার পুরো সময় ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোনগুলো খালিল ও ফারাজকে নজরদারি করছিল বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন দুটি।

অ্যামনেস্টিকে ফারাজ বলেন, 'ড্রোনগুলো খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল, ভাঙা ছাদের ভেতর দিয়ে একেবারে কাছে চলে আসছিল। এক মিটারেরও কম দূরে। আমি মুখ ঢেকে রেখেছিলাম। মনে হচ্ছিল, ড্রোনটি আমার মুখের ওপর বিস্ফোরিত হবে।' তিনি বলেন, ড্রোনগুলোতে দৃশ্যমান কোনো বিস্ফোরক ছিল না, তবে সেগুলো ক্রমাগত ভীতিকরভাবে ওপর দিয়ে উড়ছিল।

অ্যামনেস্টি জানায়, হামলা চলাকালে খালিল উদ্ধারকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন।

বিকেল ৫টার পর লেবানিজ রেড ক্রসের একটি দল শহরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু উদ্ধারকাজ শুরু করার সময় ড্রোন থেকে ছোড়া একটি স্টান গ্রেনেডের হামলার মুখে পড়ে তাদের পিছু হটতে হয়। ফলে তারা খালিলকে উদ্ধার করতে পারেনি বলে এইচআরডব্লিউকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

মানবাধিকার সংগঠনটি পর্যালোচনা করা ছবিতে লেবানিজ রেড ক্রসের অ্যাম্বুলেন্সেও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখতে পেয়েছে। এগুলোর সঙ্গে ছোট অস্ত্রের গুলির সামঞ্জস্য রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

তেবনিন সরকারি হাসপাতালের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এইচআরডব্লিউ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৫টা ৫৩ মিনিটের দিকে উদ্ধারকর্মীরা সরে আসার সময়ও খালিল সম্ভবত জীবিত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাত ৭টার দিকে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল এবং সেখান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। রাত ১১টার দিকে উদ্ধারকর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খালিল নিহত ও ফারাজ আহত হওয়ার ঘটনা এমন একটি ধারাবাহিক হামলার অংশ ছিল, যাতে হিজবুল্লাহর দুই সদস্য নিহত হয়। তারা বলেছে, 'সাংবাদিকদের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে আমরা তা দুঃখের সঙ্গে দেখছি।'

সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে বিবিসির পরবর্তী প্রশ্নের জবাব দেয়নি তারা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি বলেছে, তথ্য-প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে ইসরায়েলি বাহিনী 'জানত অথবা তাদের জানা উচিত ছিল' ওই দুই নারী বেসামরিক নাগরিক।আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা নিষিদ্ধ।

অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক হেবা মরায়েফ বলেন, 'নিরাপত্তার আশায় আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

গবেষক রামজি কাইস বলেন, সাংবাদিকদের হত্যা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো পরিণতির ভয় ছাড়াই নৃশংসতা চালানোর নির্লজ্জ ইচ্ছা প্রকাশ করছে।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২৭ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জন লেবাননে এবং ৭ জন ইসরায়েল, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় নিহত হয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪