ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি মো. আশাদুল হক ওরফে মিন্টু মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) তাঁকে ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত আলামতে প্রাপ্ত ডিএনএর সঙ্গে মেলানোর জন্য আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার মো. আশাদুল হক ওরফে মিন্টু মিয়া ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানার বড়বালিয়া (শিমুলতলী) গ্রামের মো. আছর আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ঢাকায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’-এ মেসেঞ্জার পদে এবং তাঁর স্বামী একটি ব্যাংকের এটিএম সার্ভিসে চাকরি করেন। কোরবানির ঈদের ছুটিতে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে আসেন। গত বছরের ৯ জুন ভুক্তভোগী নারী তাঁর স্বামী ও স্বজনদের নিয়ে আসামির বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। খাওয়া-দাওয়া শেষে ১০ জুন রাতে তাঁরা সেখানেই অবস্থান করেন। ১১ জুন শেষ রাতে (অনুমান ভোর ৪টা) আসামি আশাদুল হক ওই নারীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী ঘটনাটি তাঁর স্বামী ও শশুরবাড়ির লোকজনকে জানিয়ে ভূল্লী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা (মামলা নং-০৭/৫৬) দায়ের করেন।
মামলা তদন্তকালে ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ড্যা. মোছা. সালমা সুলতানা। তিনি জানান, বাহ্যিক পরীক্ষার পাশাপাশি বিষয়টি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পরবর্তীতে আদালতের আদেশে ভুক্তভোগীর পরিধেয় কাপড় ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ল্যাবরেটরির ডিএনএ এক্সামিনার মো. হারুন শেখের রাসায়নিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানানো হয়, জব্দকৃত পায়জামায় পুরুষের বীর্যের উপাদান ও মিশ্র ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে অপরাধের প্রমাণ মেলার পর র্যাব-৩-এর সহায়তায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে আসামি আশাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূল্লী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব হাসান জানান, আসামি একজন নারীলোভী প্রকৃতির লোক এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। এ ছাড়া আলামতে পাওয়া মিশ্র ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে আসামির ডিএনএ মিলিয়ে দেখার জন্য তাঁর শারীরিক নমুনা সংগ্রহের আবেদন জানিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব