| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাটকাটির গ্রাম মাগুরার আসবা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৩, ২০২৬ ইং | ০০:৩০:০৫:পূর্বাহ্ন  |  ২৯১৪ বার পঠিত
পাটকাটির গ্রাম মাগুরার আসবা

দীপক চক্রবর্তী, মাগুরা: বর্ষার মৌসুমে মাগুরা সদর উপজেলার পলিতা-বেরইল ইউনিয়নের আসবা গ্রাম যেন পাটকাটির এক বিশাল প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। গ্রামের পাশের বুড়ুলিয়া বিল থেকে পাট তুলে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি পাটকাটি শুকাতে দিয়েছেন কৃষকেরা। দূর থেকে তাকালে পুরো গ্রামটিই যেন পাটকাটির সাজে সেজে ওঠেছে।

মাগুরা সদর উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত আসবা গ্রামের পাশেই রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বুড়ুলিয়া বিল। বর্ষাকালে বিলটি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় শাপলা-শালুকের সমারোহে বিলের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের কাছে গ্রামটি ‘মিনি কুয়াকাটা’ নামেও পরিচিত। বিকেল হলেই বিলের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা।

এদিকে এখন পাট কাটার মৌসুম হওয়ায় গ্রামের নারী-পুরুষ, তরুণ ও কিশোরসহ প্রায় সব বয়সী মানুষ পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং পাটকাটি শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বিলের পানি বাড়লে অনেককে মাছ ধরতেও দেখা যায়।

পার্শ্ববর্তী বরইচারা গ্রামের কৃষক হিমাংশু বিশ্বাস বলেন, বুড়ুলিয়া বিল থাকার কারণে প্রতি বছর সহজেই পাট জাগ দেওয়া ও ধোয়ার সুযোগ পান তারা। রাস্তার দুই পাশে পাটকাটি শুকিয়ে পরে বিক্রি করা যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস।

আসবা গ্রামের কৃষক কার্তিক মণ্ডল জানান, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। যদিও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে বিলের পানির সংকট ছিল, তবে শ্রাবণ মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এখন সহজেই পাট জাগ দেওয়া, আঁশ সংগ্রহ এবং পাটকাটি শুকানোর কাজ চলছে। তিনি জানান, প্রতিবছর শুধু পাটকাটি বিক্রি করেই প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করেন। তাঁর মতো এলাকার অনেক কৃষকের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক দীপংকর রায় বলেন, বুড়ুলিয়া বিল ঘিরেই এ এলাকার কৃষি ও জীবিকার বড় অংশ আবর্তিত হয়। বিলের কারণে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ হওয়ায় কৃষকদের খরচ ও শ্রম দুটিই কমে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিন বিকেলে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে আসেন। তাঁর মতে, পাটকাটির সারি আর বিলের মনোমুগ্ধকর পরিবেশের কারণে আসবা গ্রামকে এখন ‘পাটকাটির গ্রাম’ বললেও ভুল হবে না।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪