| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় নিহত ১৫৩ বেসামরিক

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৩, ২০২৬ ইং | ১১:১৩:১১:পূর্বাহ্ন  |  ১৯৯১ বার পঠিত
ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় নিহত ১৫৩ বেসামরিক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্য করে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক হামলায় ১৫৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) পরিচালিত এক পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নথিভুক্ত সব বেসামরিক হতাহতের ঘটনাই ঘটেছে এপ্রিল মাসে ইয়েমেনে চালানো তিনটি পৃথক হামলায়।

পেন্টাগনের বার্ষিক বেসামরিক হতাহতসংক্রান্ত প্রতিবেদন হিসেবে তৈরি করা এই মূল্যায়ন ইতোমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর হাতে এসেছে। তবে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পেন্টাগন কর্মকর্তা এপিকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাত্র ২ জন বেসামরিক নিহত এবং ২ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পেন্টাগন। কিন্তু এর পরের বছরই সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে চালানো ওই তিনটি মার্কিন হামলার লক্ষ্য ছিল হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা ও এর আশপাশের এলাকা এবং ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ রাস ইসা জ্বালানি বন্দর।

তিনটি হামলার মধ্যে রাস ইসা বন্দরে চালানো হামলাটিই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটিয়েছে। ওই হামলায় ৮০ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হন।

হামলার পর বন্দরের আকাশে বিশাল আগুনের গোলা দেখা যায়। আগুন ধরে যায় তেলের ট্যাংকারেও। হামলার ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

পরে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেলে হামলার পরের দৃশ্য প্রচার করা হয়। সেখানে ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহ এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়।

রাস ইসা বন্দরে হামলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, হুথিদের জ্বালানি ও অর্থের উৎস দুর্বল করাই ছিল এই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সে সময় দাবি করেছিল, হুথিদের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানার মাধ্যমে তাদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই বন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।

তবে ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। পেন্টাগনের নিজস্ব নথিতে যে সংখ্যা উঠে এসেছে, বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

২০২৫ সালে মার্কিন বাহিনীর হামলায় এক বছরে ১৫৩ বেসামরিক নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের মানবিক প্রভাব আবারও আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে রাস ইসা বন্দরে হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার বিষয়টি মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পেন্টাগনের বার্ষিক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর এসব হামলার বিস্তারিত তথ্য, বেসামরিক হতাহতের কারণ এবং মার্কিন বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪