| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৬২ ঘণ্টা ধরে গ্যাস নেই শেরপুরে, দুর্ভোগে ৪ হাজার পরিবার

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৫, ২০২৬ ইং | ১৪:০৮:৩৮:অপরাহ্ন  |  ১৬২ বার পঠিত
৬২ ঘণ্টা ধরে গ্যাস নেই শেরপুরে, দুর্ভোগে ৪ হাজার পরিবার

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শেরপুরে টানা প্রায় ৬২ ঘণ্টা ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা। গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে গ্যাস না থাকায় একদিকে যেমন বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাসচালিত যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প জ্বালানি সংগ্রহ, বাইরে থেকে খাবার কেনা এবং বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় শেরপুরেও এর প্রভাব পড়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা। গ্যাসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল পরিবারগুলোতে রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। কেউ কেউ মাটির চুলা, লাকড়ি কিংবা অন্য কোনো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে কোনোভাবে রান্নার ব্যবস্থা করছেন। তবে শহরাঞ্চলে হঠাৎ করে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা অনেক পরিবারের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে দৈনন্দিন খরচও বেড়ে গেছে।

শেরপুর শহরের চাপাতলি এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না। ফলে বাড়তি দামে গত দুই দিন ধরে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। কবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সেটিও জানেন না তারা।

তার দাবি, পুরোপুরি সরবরাহ সম্ভব না হলেও অন্তত প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা গ্যাস দেওয়া হলে জরুরি গৃহস্থালি কাজগুলো করা সম্ভব হতো।

গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু বাসাবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নেই। জেলার একমাত্র সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে আন্তঃসড়ক ও লোকাল রুটে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় গণপরিবহন কম থাকায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনছেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আক্তার হোসেন বলেন, গ্যাস না থাকলে সিএনজি চালানো সম্ভব নয়। অথচ এই যান চালিয়েই তাদের সংসার চলে। কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। সিএনজি চালাতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ চালু করা হোক।’

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিতাস গ্যাসের শেরপুর জেলার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান। তিনি জানান, গত ১২ আগস্ট বুধবার রাত ১০টা থেকে শেরপুরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শেরপুরেও এর প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।

তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর জেলায় প্রায় ৪ হাজার আবাসিক গ্রাহক এবং ২২টি বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলায় একটি সিএনজিচালিত পাম্প রয়েছে।

জেলায় প্রতি মাসে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৭ থেকে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে শেরপুরে গ্যাসের চাপ থাকে ২০ থেকে ২২ পিএসআই। শেরপুরে গ্যাসের সরবরাহ মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাতারবাড়ী অঞ্চল থেকে হয়ে থাকে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মিডিয়া ও জনসংযোগ শাখার জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের জন্য তিতাস প্রস্তুত রয়েছে এবং তাদের পাইপলাইনে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় গ্রাহকদের গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এটি শুধু শেরপুরের সমস্যা নয়, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে জাতীয় পর্যায়ের সমস্যা হওয়ায় নির্দিষ্ট করে কখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বলেন, শেরপুর জেলায় সম্পূর্ণভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিতাস গ্যাসই বিস্তারিত জানাতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি গ্যাস সংকট এবং দ্রুত এর সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনাল বা ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে পুনরায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কিছুটা গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সারাদেশের গ্যাস সংকটও ধীরে ধীরে কমে আসবে। শেরপুরে গত দুই-তিন দিন ধরে গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ থাকার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না বলেও জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।

দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শেরপুরের প্রায় ৪ হাজার আবাসিক গ্রাহকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রান্নার পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত এবং গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে,কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাঁচ থেকে সাত দিনের সম্ভাব্য সময়ের কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে পারেনি।

ফলে গ্যাসের অপেক্ষায় থাকা শেরপুরের হাজারো মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা জাতীয় পর্যায়ের এই সংকট দ্রুত কেটে গিয়ে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরুক, আর দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটুক।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪