| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তারেক রহমানের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৬, ২০২৬ ইং | ২১:৫৯:৩৮:অপরাহ্ন  |  ৫৮৯ বার পঠিত
তারেক রহমানের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি

রিপোর্টার্স ডেস্ক: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন কমিটির একটি খসড়া ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রয়েছে। তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত শুক্রবার তিনি বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ পাঁচ নেতার বিদায়ী সাক্ষাৎ নতুন কমিটি ঘোষণার আলোচনা আরও জোরালো করেছে। সাক্ষাতের পর সংগঠনের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা দেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বিদায়ী সাক্ষাতে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দেওয়া এবং বিদায়ী নেতাদের মূল দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ভূমিকার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা নেতাদের পরবর্তী ধাপে নিয়ে গিয়ে নতুনদের নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দুই বছরের মেয়াদ শেষ

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়াকে সিনিয়র সহসভাপতি, শ্যামল মালুমকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা ও পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বাড়ে।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় একাধিক নাম

নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিক, রিয়াদ রহমান, আরিফুল ইসলাম আরিফ, খোরশেদ আলম সোহেল, তরিকুল ইসলাম তারিক, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, রাজু আহমেদ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, শরীফ প্রধান শুভ, মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, সাফি ইসলাম ও নুর আলম ভূঁইয়া ইমনের নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা শীর্ষ দুই পদে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।

কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল বলেন, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়েছে এবং যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে। হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা সবাই মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে পদপ্রত্যাশী নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী, নারী নেতৃত্ব এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতাদেরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে।

বিদায়ী নেতাদের আবেগঘন বার্তা

নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা চান এবং নতুন রাজনৈতিক জীবনের জন্য শুভকামনা কামনা করেন।

এরপর বিদায়ী বার্তা দেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল বা অন্যায় হয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে বলেন, পদ থেকে বিদায় নিলেও ছাত্রদল থেকে বিদায় নেওয়া যায় না। নতুন নেতৃত্বের অধীনে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন নেতৃত্বে কী প্রত্যাশা

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, অতীতের আন্দোলনে পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করলে সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অন্য অংশের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রদলকে শুধু আন্দোলনকেন্দ্রিক সংগঠন না রেখে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অধিকার, নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বিদায়ী সাক্ষাৎ, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিদায়ী বার্তা এবং নতুন পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার অপেক্ষা এখন তুঙ্গে। তবে বিএনপির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত নতুন কমিটির শীর্ষ দুই পদে কারা থাকছেন, তা নিশ্চিত নয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪