| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের দুই দিন পর নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৯, ২০২৬ ইং | ১৯:১৭:৩৪:অপরাহ্ন  |  ১২৩০ বার পঠিত
বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের দুই দিন পর নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের দুই দিন পর হাফিজুর রহমান (২৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহারি এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি যে খাদে পড়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

নিহত হাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পিংগুলিয়া গ্রামের মির্জা কাওসার মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন হাফিজুর। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তার নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহারি এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। ট্রাকটি রাস্তার পাশে থাকা বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের গেটসংলগ্ন একটি খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে আটকে যায়।

দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালক-সহকারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশে তল্লাশি চালানো হলেও তখন হাফিজুরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ধারণা, সংঘর্ষের সময় হাফিজুর বাস থেকে ছিটকে পড়ে পানিতে তলিয়ে যেতে পারেন। দুই দিন পর বুধবার সকালে স্থানীয় এক কৃষক খাদে পাট জাগ দিতে গিয়ে পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত হন।

পরে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি হাফিজুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের চাচা মোশারেফ মোল্যা বলেন, সোমবার সকালে হাফিজুর পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় জিডি করা হয়। বুধবার খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি হাফিজুরের মরদেহ শনাক্ত করেন।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পানিতে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর বাসটি উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সে সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও কোনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪