নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: দেশে চলমান গ্যাস সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গণপরিবহন ছাড়া অন্য পরিবহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন নিট পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে গ্যাসের সংকট ও শিল্পখাতে এর প্রভাব নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত এক মাসে অন্তত ৪০ শতাংশ রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সময়মতো পণ্য না পাওয়ার শঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারাও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন হাতেম। জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ১২ মাসের কিস্তির ব্যবস্থা, বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, গণপরিবহন ছাড়া অন্য যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানান তিনি।
একই সঙ্গে এ পরিস্থিতিতে কারখানা মালিকেরা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও তাঁদের ‘ক্ল্যাসিফাইড’ হিসেবে চিহ্নিত না করার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি বলেন, “যতদিন পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হবে, ততদিন পর্যন্ত এই বিষয়ে যেন ব্যাংক বিরত থাকে। অন্তত ৬ মাসের জন্য এই সুবিধা দেওয়ার দাবি জানাই।”
সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকটের বিষয়ে নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
হাতেম বলেন, “আমরা আসলে অন্ধকারে আছি। এই সংকট কবে সমাধান হবে, সেই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছি না। এ কারণে বিভিন্ন রকমের গুজব ছড়াচ্ছে।”
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, গ্যাসের সংকট বহুদিনের হলেও গত ২০ জুলাই থেকে তা তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, “গ্যাসের চাপ জিরো হয়ে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ। এমন অবস্থায় অন্তত ৩০০ কারখানা রয়েছে। চলতি মাসে এই সংকটের সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।”
“ফলে বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ শিপমেন্ট করতে পারছি না। এতে বিদেশি ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। অর্ডারগুলো পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শিফট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী সিজনের বেশ কিছু রপ্তানি আদেশ ক্রেতারা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে শিল্পখাত গ্যাসের ওপরই নির্ভরশীল থাকবে, নাকি অন্য কোনো জ্বালানির ব্যাপারে যাব সেই দিকনির্দেশনা তারাই দেবেন।”
সংবাদ সম্মেলনে বিজেএমইএ’র সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অমল পোদ্দার এবং সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব