| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক বাংলাদেশের জন্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২২, ২০২৬ ইং | ২১:৫৮:৫৭:অপরাহ্ন  |  ৭৯ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক বাংলাদেশের জন্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্ক বাংলাদেশের জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, এই শুল্ক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পারস্পরিক শুল্ক) আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সর্বনিম্ন হারের মধ্যে একটি।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সিলেট পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভারতের যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন।

তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যায়।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দের কাছে দিয়েছেন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।

এছাড়া মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান তিনি। বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে তাদের কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ রয়েছে। সেগুলো সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বর্তমানে বাংলাদেশের ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই আমদানি বেশি ও রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম, এটি অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

তবে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানির পরিমাণ বাড়লে আমদানির পরিমাণও বাড়বে। রপ্তানি ও আমদানি মিলিয়ে দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণের সামঞ্জস্য থাকা দরকার।

ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভিয়েতনামের আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ এখন প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে এটি ঠিক সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করা উচিত। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন আপনি আমার কাছে নিয়ে এসেছেন। এই প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।

সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথমত, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, সিলেটে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আমরা দেখতে চাই না। মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে এসএমপিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা আমরা সিলেটে দেখতে চাই না।

এ নিয়ে এসএমপি কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা নির্মূলে আইনের মধ্যে থেকে যা করা দরকার, তিনি তা করবেন।

এর আগে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

‎রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪