| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর রাখাইনের যুদ্ধে ঝুলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ইং | ১৩:২১:২০:অপরাহ্ন  |  ১৫৭ বার পঠিত
রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর রাখাইনের যুদ্ধে ঝুলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: এক, দুই, তিন করে রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এরপর কেটে গেছে প্রায় এক দশক। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে।

দীর্ঘ এই সময়ে আন্তর্জাতিক চাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, সংকটের চরিত্রও তত জটিল হয়েছে।

এখন নতুন করে সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির সশস্ত্র সংঘাত। রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা এই লড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সামনে তৈরি করেছে নতুন প্রশ্ন—রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে কার কাছে? মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে, নাকি রাখাইনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির সঙ্গে সমঝোতা করে?

রাখাইনের এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতাই এখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাখাইনে নেপিডোর নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে

একসময় পুরো রাখাইন রাজ্যের প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর। কিন্তু ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে আরাকান আর্মির সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হলে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক বাহিনী বড় ধরনের চাপে পড়ে।

আরাকান আর্মি নিজেদের রাখাইনের জনগণের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরে। দীর্ঘদিনের সশস্ত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি এখন রাখাইনের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় রাখাইনে কার্যত দুই ধরনের ক্ষমতার কাঠামো তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে নেপিডোর সামরিক সরকারের আনুষ্ঠানিক সার্বভৌমত্ব। অন্যদিকে রয়েছে আরাকান আর্মির মাঠপর্যায়ের সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ।

এই দ্বৈত ক্ষমতার বাস্তবতায় শুধু মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যকর করা কতটা সম্ভব সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরাকান আর্মির অবস্থান

আরাকান আর্মি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটকে রাখাইনের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমস্যার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাখাইনের জনগণের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরাকান আর্মির ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, সংঘাতের সময় রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক জনগোষ্ঠী উভয় পক্ষের সহিংসতার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা এবং মানবিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

আরাকান আর্মি অবশ্য রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটি নিজেদের রাখাইনের সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার পক্ষে একটি শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে।

প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত কি রাখাইন?

রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা, মানবিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নিরাপদে ফেরত পাঠানো কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য শুধু সীমান্ত পার করে মানুষকে ফিরিয়ে দিলেই হবে না। প্রয়োজন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নাগরিকত্বের অধিকার, অবাধ চলাচল, জমি ও সম্পত্তির অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা।

বর্তমান বাস্তবতায় এসব শর্ত পূরণ হয়নি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্লেষক।

নেপিডোর সঙ্গে প্রত্যাবাসন আলোচনা কতটা বাস্তবসম্মত?

মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার দাবি করছে, যাচাই করা রোহিঙ্গাদের তারা ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে মিয়ানমার বলেছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়।

মিয়ানমার সরকার মূলত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া রাখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাখাইনের বড় অংশ যদি নেপিডোর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।

কারণ, প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, বসবাসের জায়গা, চলাচল এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক—এসব বিষয় সরাসরি রাখাইনের মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণকারী শক্তির সঙ্গে জড়িত।

বাংলাদেশের সঙ্গে কি আরাকান আর্মির যোগাযোগ আছে?

আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশ এখনো প্রকাশ্য কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে রাখাইনের বর্তমান বাস্তবতায় সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকার কৌশল হচ্ছে, একদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে রাখাইনের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখা।

বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকার আমলে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের স্বার্থে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ দখলে থাকা আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ রাখছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আরাকান আর্মির প্রধানও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নয়। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তার বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের পাশাপাশি চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, আসিয়ান ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষ সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও কার্যকর রাজনৈতিক সমাধান এখনো অধরা।

আন্তর্জাতিক মহলও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

প্রত্যাবাসন কি আদৌ সম্ভব?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অসম্ভব নয়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দ্রুত ও বড় পরিসরে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা কম।

এ ক্ষেত্রে অন্তত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, রাখাইনে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা। দ্বিতীয়ত, নেপিডো ও আরাকান আর্মির মধ্যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা কার্যকর সমন্বয় তৈরি হওয়া। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা।

কারণ শুধু সীমান্ত পার করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠিয়ে দিলেই সেটিকে টেকসই প্রত্যাবাসন বলা যাবে না। তাদের নিরাপদে বসবাস, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন তিন পক্ষ

রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান বাস্তবতায় তিনটি পক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশ সরকার, মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি।

সংকটের প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা ছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা। নবম বছরে এসে সেই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির যুদ্ধ।

ফলে প্রত্যাবাসনের চাবিকাঠি এখন শুধু ঢাকার হাতে নেই। এমনকি শুধু নেপিডোর হাতেও নেই। রাখাইনের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রত্যাবাসন কাঠামো তৈরি করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর পূর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী অথবা আরাকান আর্মির সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তাদের বাইরে রেখে প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা আরাকান আর্মির সঙ্গে একটি কার্যকর বোঝাপড়া তৈরি করা গেলে প্রত্যাবাসনের পথ খুলতে পারে।

ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশ বারবার শুধু জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে থাকলে তাতে মিয়ানমারসহ এই অঞ্চলের অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তার মতে, জাতিসংঘ এককভাবে এই সংকটের সমাধান করতে পারবে এমনটা মনে করার কারণ নেই।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব আনাম খান মনে করেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে আরও কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কূটনৈতিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ, অবকাঠামো এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি দরকার।

তার মতে, একবারে শতভাগ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আশা করা বাস্তবসম্মত না হলেও ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি শুরু করা সম্ভব হতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর সম্ভাবনাও তিনি দেখছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রসচিবের বার্তা

রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর পূর্তিতে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিটি অতিরিক্ত বছর মানে শিক্ষায় ব্যাঘাত, শৈশব হারানো, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, মানসিক ভঙ্গুরতা, পরিবেশগত চাপ এবং অবৈধভাবে অন্যত্র অভিবাসনের ঝুঁকি বৃদ্ধি।

তার মতে, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের নিজ সমাজে পুনঃএকত্রীকরণের সম্ভাবনাকেও দুর্বল করে দিতে পারে। তাই সময় এখন রোহিঙ্গা সংকটের অন্যতম বড় অনুঘটক হয়ে উঠেছে।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে প্রত্যাবাসন কোনো কাল্পনিক ধারণা নয়। তবে এবার সংকটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সমাধানকে আরও বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ করতে হবে। প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সমর্থনপুষ্ট কূটনীতি, উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা, অধিকার ও পুনঃএকত্রীকরণের সহায়তায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বক্তব্য

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ২০১৭ সালের ব্যাপক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত করে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই দায়িত্ব নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি রোহিঙ্গা সংকটের চূড়ান্ত সমাধান নয়। সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও বারবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

অপেক্ষা কি আরও দীর্ঘ হবে?

রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। একদিকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অন্যদিকে রাখাইনে আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ দুই বাস্তবতা প্রত্যাবাসনকে আগের চেয়েও জটিল করে তুলেছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য এখন শুধু ঢাকা-নেপিডো আলোচনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন রাখাইনের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা।

নইলে রোহিঙ্গা ঢলের নবম বছরও শেষ হবে, আর প্রত্যাবাসনের অপেক্ষা গড়াবে দশম বছরে—সমাধানের বদলে সংকটের মেয়াদই শুধু দীর্ঘ হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪