স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন আরিফুল ইসলাম। এরপর থেকে নিয়মিত দেশের পাইপলাইনে যুক্ত রয়েছেন এই ব্যাটার। সবশেষ টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টিতে এইচপি দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গিয়েছিলেন আরিফুল। সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়লেও এই ব্যাটার ব্যাট হাতে ছিলেন উজ্জ্বল।
টুর্নামেন্টজুড়ে ৭ ম্যাচে ২১৯ রান করেছেন ১৩৮ স্ট্রাইকরেটে। অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার আগে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ঢাকা পোস্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন। টুর্নামেন্টজুড়ে দাপট দেখিয়েও সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় হতাশ এই তরুণ ব্যাটার।
আরিফুল বলছিলেন, ‘আমরা পুরো টুর্নামেন্ট যেভাবে খেলেছি সেমি-ফাইনালে সেভাবে পারিনি। আমরা কেউই ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি একমাত্র জিসান ছাড়া। আমাদের ব্যাটারদের কিছু ভুল ছিল, এ ছাড়া আম্পায়ারের কিছু সিদ্ধান্তও আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে। তবে বোলাররা যেভাবে চেষ্টা করেছে এক কথায় দারুণ বলতে হয়। বিপক্ষ দল উইকেট দেখেছে বুঝেছে তারপরও কিন্তু ওদের নয় উইকেট পড়ে গিয়েছিল। দুই বল বাকি থাকতে ওরা জিততে পেরেছে। আমাদের বোলারদের অবশ্যই ক্রেডিট দিতে হয় যেভাবে বোলিং করেছে।'
নিজের ব্যাটিং নিয়ে আরিফুল বললেন, 'আল্লাহ সহায় ছিল, আর আমি চেষ্টা করেছি তাই হয়তো পেরেছি ব্যাক করতে। টি-টোয়েন্টির জন্য আমি হয়তো অনেক বড় খেলোয়াড় না। তবে আমার হাতে যে শটগুলো রয়েছে সেটা টি-টোয়েন্টিতে যদি খেলতে পারি তাহলে ভালো হবে। টি-টোয়েন্টি এমন একটা ফরম্যাট যেখানে আমি প্রথম বল থেকেই মন খুলে খেলতে পারি। আমি দুইটা যুব বিশ্বকাপ খেলেছি একটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটা দক্ষিণ আফ্রিকাতে। আগেরবার একটা ম্যাচ খেলেছিলাম অস্ট্রেলিয়াতে এসে, এবার সবগুলো খেলার সুযোগ পেয়েছি। এসব কন্ডিশন আমার এভারেজ কিন্তু বেশ ভালো।'
লেগ সাইডে ফ্লিকে দৃষ্টিনন্দন সব ছক্কা মারতে পারেন আরিফুল, ‘দেখুন ওই শটগুলো কিন্তু আমি প্রতিনিয়তই খেলি। বিপিএলেও খেলেছি। নাহিদ রানাকে একটা ছক্কা মেরেছিলাম পেছনে, সেটা আরও লেগ সাইডের বল বুক বরাবর আর কি। যাদের বলে গতি রয়েছে ১৪০-৪৫ রয়েছে, তাদের বলে মারলে কিন্তু এটা ছক্কা হবেই।'
দেশের ঘরোয়াতে খেললেও ঠিক বড় রান হচ্ছিল না আরিফুলের। তবে এবার পেরেছেন আরিফুল, ‘এই টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচটা খুব ভালো শুরু করেছিলাম, এরপরে আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলাম যে আমি আমার রিদমটা ফিরে পাচ্ছি। সত্যি কথা বলতে দ্বিতীয় ম্যাচ বাদে আমি প্রত্যেকটা ম্যাচের ব্যাটিং নিয়ে খুশি। মেইনলি শুরুটা সবসময় ভালো করতে পেরেছি, কয়েকটা ম্যাচে ইনিংস বড় করতে পারিনি। একদিন বাজে আউট হয়েছি আম্পায়ারের ভুলে। এই জায়গাগুলো যদি একটু বড় করতে পারতাম দায়িত্ব নিয়ে, তাহলে আরও ভালো লাগতো। ২১৯ রান এটা ৩১৯ হতে পারতো।'
স্ট্রাইকরেট আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, 'এই টুর্নামেন্টে আমি আসলে কোনো ম্যাচে স্লো করিনি। একটা ম্যাচে ৫৪ বলে ৬৬ করেছি সেটা ম্যাচ দেখলেই বুঝতে পারবেন যে আসলে দলের প্রয়োজনে এভাবে ব্যাটিং করেছি। বাকি যারা ছিল সবাই কিন্তু টুর্নামেন্টে ১২৮ বা ৩০ এমন স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেছে। কেউ কিন্তু ১৫০-৬০ এ ব্যাটিং করতে পারেনি। জিসান একটা ম্যাচে ১৭০ প্লাস ব্যাটিং করেছিল। আমার মনে হয় আমি ঠিকভাবে ব্যাটিং করেছি তবে এটা উন্নতির আরও জায়গা রয়েছে। সামনে চেষ্টা থাকবে এটা কিভাবে আরও বাড়ানো যায়।'
টুর্নামেন্টে দারুণ বল করেছেন মিস্ট্রি স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। ২৩ উইকেট পাওয়া এই বোলারের বল বুঝতেই পারেনি বিপক্ষ দলের ব্যাটাররা এমন দাবি আরিফুলের, 'দারুণ বোলার ভাই, তার এই বল অনেক দলের ক্রিকেটার বুঝেইনি। আসলে সে কি বল করেছে বুঝেনি এদিকে তারা কিন্তু নিয়মিত বিগ ব্যাশ খেলে। রুবেল ভাইয়ের কথা কি বলবো দুর্দান্ত বোলিং করেছেন।'
আরিফুল অবশ্য সবশেষ জানালেন এমন টুর্নামেন্টে রান করা সামনের দিনে কাজে দিবে। আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে তার, 'আসলে আলহামদুলিল্লাহ। তবে আমার যে ক্যাপাবিলিটি সেটা আমি এখনো দেখাতে পারিনি। ইন শা আল্লাহ আমি সামনে বাংলাদেশের হয়ে সেটা দেখাতে চাই। এখন কনফিডেন্স অনেক ভালো পাচ্ছি।'
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম