নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিল (নজরুল স্কোয়ার) প্রাঙ্গণে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ বৃক্ষ চিহ্নিত করে স্বমূলে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
এ দাবিতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ডিসি হিল প্রাঙ্গণে পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক।
পথসভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম আদালতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা পান্কু রঞ্জন সাহা, শ্রমিক নেতা এম. নুরুল হুদা চৌধুরী, কবি অরুণ শীল, নেসারুল হক নেসার, মীর আমির খান, সবুজ রক্ষিত, অমল দাশ, অচ্যুত দাশগুপ্ত ও মোহাম্মদ রায়হান।
বক্তারা বলেন, প্রকৃতির ভার সাম্য রক্ষা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ মানুষের পরম বন্ধু এবং পরিবেশের অন্যতম প্রধান উপাদান। তবে সব ধরনের বৃক্ষ পরিবেশের জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। মানুষের উপকারের তুলনায় ক্ষতির মাত্রা বেশি—এমন কিছু বৃক্ষের মধ্যে ইউক্যালিপটাস, সেগুন, মেহগনি, ইপিল-ইপিল, মটমটিয়া, পিসাইস, পার্থেনিয়াম, আকাশমণি ও আকাশিয়া উল্লেখযোগ্য বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে ক্ষতিকর প্রজাতির কিছু বৃক্ষ ডিসি হিল (নজরুল স্কোয়ার) এলাকাতেও দেখা যায়। এসব বৃক্ষের সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, এসব বৃক্ষ অতিরিক্ত পরিমাণে পানি শোষণ করে এবং আশপাশের অন্যান্য উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি এসব গাছের ফুল, পাতা ও পরাগকণার কারণে মানুষের শ্বাসতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। পাখি, পোকামাকড়সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রাণীর জন্যও এসব বৃক্ষ উপযোগী আবাসস্থল তৈরি করে না বলে বক্তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, ডিসি হিল শুধু একটি উন্মুক্ত স্থান নয়; এটি চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ।
জনস্বাস্থ্য, পরিবেশের ভারসাম্য এবং নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে ডিসি হিল (নজরুল স্কোয়ার) প্রাঙ্গণের ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বৃক্ষগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করে স্বমূলে অপসারণের দাবি জানান বক্তারা।
একই সঙ্গে অপসারিত বৃক্ষের স্থানে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব প্রজাতির বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান তারা। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে ডিসি হিলকে আরও সবুজ, নিরাপদ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ও নান্দনিক করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান বক্তারা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম