রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের নাম ও রোল গোপন রেখে ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন এ পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষক পরীক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বরসহ ব্যক্তিগত পরিচয় জানতে পারবেন না। ফলে পরিচয়ভিত্তিক কোনো প্রভাব ছাড়াই খাতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টার থেকেই এই কোডিং পদ্ধতি কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, 'শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, ফলাফলে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা এবং যেকোনো ধরনের পক্ষপাতহীনতা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টার থেকে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হবে।
পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের দিক উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়া চালু ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণে আগামীকাল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এই পদ্ধতি চালু ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিষয়বলি জানানো হবে।
যেভাবে কাজ করবে কোডিং পদ্ধতি নতুন এই ব্যবস্থায় পরীক্ষার খাতার কভার পৃষ্ঠায় (মলাট) দুটি পৃথক অংশ থাকবে। একটি অংশে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে এবং অপর অংশে থাকবে একটি নির্দিষ্ট কোড নম্বর।
পরীক্ষকের কাছে খাতা হস্তান্তরের আগেই নাম-রোল সম্বলিত অংশটি আলাদা রাখা হবে এবং কেবল কোড নম্বরযুক্ত অংশটি পৌঁছাবে পরীক্ষকের টেবিলে। ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষক শিক্ষার্থীর পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবিদিত থাকবেন। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গোপন কোডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা মূল অংশ মিলিয়ে নম্বরপত্র তৈরি ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম