| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রতিবেশীদের গোপন কথা বিক্রি করেই দু’বাড়ির মালিক মিরিয়াম

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬ ইং | ১১:১২:০৪:পূর্বাহ্ন  |  ৬৬ বার পঠিত
প্রতিবেশীদের গোপন কথা বিক্রি করেই দু’বাড়ির মালিক মিরিয়াম

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেমের সম্পর্ক, পরকীয়ার অভিযোগ, ঝগড়া কিংবা পাড়ার নানা ঘটনা—এসব তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করেন কলম্বিয়ার ৬৭ বছর বয়সী মিরিয়াম। তার দাবি, এই অদ্ভুত ব্যবসা থেকে আয় করেই তিনি দুইটি বাড়ি কিনেছেন।

কলম্বিয়ার কুইন্দিও বিভাগের আর্মেনিয়া শহরে বসবাস করেন মিরিয়াম। নিজের এই পেশাকে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় ‘চিসমোসা’ অর্থাৎ গসিপপ্রিয় বা পরচর্চাকারী হিসেবে পরিচয় দেন। তার কথায়, ‘আমি গসিপ ভালোবাসি।’

সম্প্রতি কনটেন্ট নির্মাতা লেডি দানিয়েলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ব্যবসার কথা জানান মিরিয়াম। পরে তার সাক্ষাৎকারটি কলম্বিয়া ও চিলির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

মিরিয়াম জানান, পাড়ার মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটছে, তা তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন। কারও সম্পর্কের সমস্যা, পরকীয়ার অভিযোগ, পারিবারিক ঝগড়া কিংবা ছোটখাটো ঘটনা—সবকিছুই তার নজরে থাকে। পরে এসব তথ্য জানতে আগ্রহী মানুষের কাছে তিনি তা বিক্রি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে এখানে কথা বলতে পারি, কিন্তু আমার ছোট কান দুটো ঠিকই শুনছে আশপাশের মানুষ কী বলছে।’

গসিপের ধরণ ও গুরুত্ব অনুযায়ী তার পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়। পাড়ার সাধারণ কোনো খবরের জন্য কয়েক হাজার কলম্বিয়ান পেসো নেন তিনি। তবে সংবেদনশীল বা বিস্তারিত তথ্যের দাম অনেক বেশি।

মিরিয়াম জানান, একবার এক ব্যক্তির পরকীয়ার বিষয় গোপন রাখার বিনিময়ে তিনি ৭ লাখ কলম্বিয়ান পেসো পেয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তার স্ত্রী ভ্রমণে গেলে অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতেন বলে দাবি করেন মিরিয়াম।

তথ্য সংগ্রহের জন্য মিরিয়াম বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে অবস্থান করেন। আশপাশে কী ঘটছে, কে কার সঙ্গে কথা বলছে—এসব খেয়াল করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে সঙ্গে একটি ডায়েরিও রাখেন। তার দাবি, এতে তথ্য সঠিকভাবে মনে রাখা এবং গ্রাহকদের কাছে তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা সহজ হয়।

নিজের বাড়িতে একটি বোর্ডও দেখিয়েছেন মিরিয়াম। সেখানে প্রতিবেশীদের ছবি ও বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে লেখা নোট রয়েছে। কিছু ছবিতে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত বলে দাবি করা ব্যক্তিদের দেখা যায়। মিরিয়ামের ভাষায়, এটি তার কাছে পাড়ার ঘটনাবলির একটি ব্যক্তিগত সংরক্ষণাগার।

এই ব্যবসা থেকে আয় করে দৈনন্দিন খরচ চালানোর পাশাপাশি দুইটি বাড়ি কিনতে সক্ষম হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। নিজের সঞ্চয়ের একটি বড় পাত্রও দেখান মিরিয়াম, যেখানে কয়েন ও নোট রাখা ছিল। তার দাবি, গসিপ বিক্রি করে পাওয়া অর্থের একটি অংশ সেখানে জমা করেন তিনি।

মিরিয়াম দাবি করেন, তিনি প্রমাণ ছাড়া কোনো তথ্য ছড়ান না। পাড়ার প্রায় সব ঘটনা জানেন—এমন খ্যাতির কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘গসিপের রানি’ নামে পরিচিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গসিপই আমার জীবন। এটা আমার রক্তে মিশে আছে।’

তবে তার এই কাজ নিয়ে সবাই খুশি নন। কয়েকজন প্রতিবেশী অভিযোগ করেছেন, মিরিয়াম মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করছেন।

তবে মিরিয়ামের দাবি, যারা একসময় তার গসিপ নিয়ে আপত্তি করতেন, তারাই পরে আবার তার কাছে ফিরে আসেন—কারণ পাড়ায় কী ঘটছে, তা জানার আগ্রহ তাদেরও রয়েছে।

মিরিয়াম আরও জানান, কেউ কেউ তার এই ব্যবসার পদ্ধতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও তথ্য সংগ্রহের দক্ষতার কারণে তিনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন বলে মনে করেন।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪