কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে শেষ হলো বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাধুসঙ্গ। রোববার পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সাধুদের মিলনমেলা।তবে, লালনের মূল মঞ্চের অনুষ্ঠান ও তিন দিনের গ্রামীণ মেলা চলবে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত। তিন দিন মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পী ও দেশবরেণ্য লালন শিল্পীরা লালন ফকিরের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করবেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা আনান ফকির (৪৫) শেষবারের মতো গেয়ে উঠলেন, "মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি,এই মানুষগুলোকে কেউ দাওয়াত দেয়নি। টাকা-পয়সা, মাইক-ব্যানারে আসেননি। এসেছেন মায়ার টানে। এখানে আসতে নিমন্ত্রণ লাগে না। সাঁইজির প্রেমে ছুটে আসি," বললেন আনান।ঢাকা থেকে আসা এসেছিলেন বারেক ফকির তিনি বললেন, "সারা বছর অপেক্ষা করি এই ক'টা দিনের জন্য। এখানে জাত নাই, পাত নাই। আমরা সবাই মানুষ।"
ভক্তদের বিদায়ে আখড়াবাড়ির খাদেম মোহাম্মাদ আলী বললেন, "ওরা চলে গেলে আখড়া ফাঁকা লাগে। আবার দোলের অপেক্ষা।"এবারও পথ প্রদর্শক লালনকে স্মরণ ও অবাধ্য মনকে শুদ্ধ করতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার লালন অনুসারী ভক্ত-অনুরাগী আর দর্শনার্থীরা এই আখড়াবাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন।
লালনের রীতি অনুযায়ী ১লা কার্তিক সন্ধ্যায় অধিবাস, ২রা কার্তিক সকালে বাল্য সেবা ও দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হওয়ায় বিকেলেই লালন অনুসারীদের অধিকাংশই ভারাক্রান্ত মনে আখড়াবাড়ি ছেড়ে গেছেন। বাকিরা সোমবার সকাল থেকে গুরুকার্য শেষ করে অশ্রুসিক্ত নয়নে লালনের তীর্থধাম ছাড়বেন।
পূর্ণতা সাধনের জন্য আবারও দোল উৎসবে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষায় থাকবেন সাধুরা।ঐতিহাসিক এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর স্মরণে প্রথমে তাঁর ভক্তরা, পরবর্তীতে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন এই উৎসব চালিয়ে আসছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব