| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশু সোহানার পাশে নরসিংদীর ডিসি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ইং | ১৪:৫০:১০:অপরাহ্ন  |  ৩৩৫ বার পঠিত
বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশু সোহানার পাশে নরসিংদীর ডিসি

নরসিংদী প্রতিনিধি: জন্মদাতা বাবা-মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত সাত বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু সোহানার পাশে দাঁড়িয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।

শিশুটির চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, পরিচর্যা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান, জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার কার্যক্রমও চলছে।

নরসিংদী শহরের বানিয়াছল এলাকায় শিশু সোহানাকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। এ সময় তিনি শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তার প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে সরকারি শিশু পরিবারে তার নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সাত বছরের সোহানা জন্ম থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। সে ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারে না। অভিযোগ রয়েছে, তার বাবা-মা তাকে ফেলে চলে গেছেন। যে বয়সে বাবা-মায়ের স্নেহ-ভালোবাসায় তার বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে অবহেলা, অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের কঠিন বাস্তবতা। শিশুটির এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আম্বিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা। নিজেরই দুবেলা খাবার জোগাড় করা কঠিন হলেও ভিক্ষা করে পাওয়া সামান্য অর্থ থেকে সোহানার মুখে খাবার তুলে দেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নিজের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই শিশুটিকে আগলে রেখেছেন এই বৃদ্ধা।

রক্তের সম্পর্ক কিংবা আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও শিশু সোহানার প্রতি আম্বিয়া বেগমের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মমতা মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তার এই অসাধারণ মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। শিশুটির প্রতি দায়িত্বশীলতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জন্য তিনি আম্বিয়া বেগমের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা তার পরিবার। কিন্তু সেই আশ্রয়ই যখন হারিয়ে যায়, তখন শিশুটির হাত ধরে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সোহানার চিকিৎসা, নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। একটি শিশুর আপনজন তাকে ছেড়ে গেলেও রাষ্ট্র যেন তাকে অসহায় অবস্থায় ফেলে না রাখে এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই শিশুটির কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি শিশুর নিরাপদ আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা, ভালোবাসা পাওয়া এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার অধিকার রয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শিশু সোহানার জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪