| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জাপানের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ইং | ১২:৪৫:১০:অপরাহ্ন  |  ৫৮১ বার পঠিত
জাপানের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে জাপানের বাজার। গত কয়েক বছরে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে জাপানে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের হিস্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৮ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে জাপানের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৩৪৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক। সামগ্রিক রপ্তানিতে জাপানের অংশ বৃদ্ধি দেশের পোশাক খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, গত কয়েক বছরে জাপানের মোট পোশাক আমদানিতে ওঠানামা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাজারটি আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। ফলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য দেশটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন ক্রেতা তৈরি এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চার বছরে রপ্তানিতে ওঠানামা, ফিরেছে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অবদান গত কয়েক বছরে সীমিত পরিসরে থাকলেও রপ্তানির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। কোনো অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে, আবার কোনো বছরে তা কমেছে। ফলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখা এবং বাজার হিস্যা বাড়ানো রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১৫ কোটি মার্কিন ডলার। পরের অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ রপ্তানি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।

তবে পরবর্তী অর্থবছরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে রপ্তানি দাঁড়ায় ১১৩ কোটি ডলারে।

একই সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এর প্রভাবে মোট পোশাক রপ্তানিতে জাপানের বাজারের হিস্যা কমে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে আসে।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের চিত্র আগের প্রবণতা থেকে কিছুটা আলাদা। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে জাপানের বাজারে রপ্তানির হিস্যা ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছানোয় নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতেও বজায় থাকলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জাপানের পোশাক আমদানিতে বাড়ছে চাহিদার ইঙ্গিত

বাংলাদেশের রপ্তানি পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি জাপানের সামগ্রিক পোশাক আমদানির প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোনো দেশের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে সেই দেশের ভোক্তা চাহিদা, আমদানির পরিমাণ, পণ্যের ধরন এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থানের ওপর।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক আমদানি করে। পরবর্তী এক বছরে আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নেমে আসে।

এরপর জাপানের পোশাক আমদানির বাজারে আবার প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। ২০২৪-২৫ সময়ে দেশটির পোশাক আমদানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। পরবর্তী ২০২৫-২৬ সময়ে আমদানি আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে।

চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে জাপান ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। এসব পরিসংখ্যান দেশটির পোশাক আমদানির বাজারে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে বাংলাদেশের জন্য এ সুযোগ কতটা কাজে লাগানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে জাপানি ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর।

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে পারলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বাজার বহুমুখীকরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে প্রচলিত বড় রপ্তানি বাজারগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিতে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাজার হিস্যা বাড়াতে প্রয়োজন ধারাবাহিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও গত কয়েক বছরে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়েনি। এক অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে আবার রপ্তানি কমেছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের ইতিবাচক চিত্রকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে মোট পোশাক রপ্তানিতে জাপানের হিস্যা ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজার হিস্যা ধরে রাখা এবং আরও বাড়াতে পারলে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক বাণিজ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে জাপানি ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী পণ্যের মান ও নকশা উন্নয়ন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি নতুন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করাও রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবণতা এবং দেশটির সামগ্রিক আমদানির চিত্র পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ ও বাজার হিস্যা—দুটিই বিবেচনায় নিতে হবে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল একটি প্রান্তিকের রপ্তানি বৃদ্ধি দিয়ে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। বরং কয়েকটি প্রান্তিক ও অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে রপ্তানির স্থায়িত্ব এবং বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

নতুন বাজার সম্প্রসারণে কাজে লাগতে পারে জাপানের চাহিদা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রচলিত বাজারগুলোর পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজারে রপ্তানি বাড়ানো জরুরি। জাপানের মতো বড় আমদানিনির্ভর বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা বাড়াতে পারলে রপ্তানি আয়ের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে।

জাপানের পোশাক আমদানিতে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের রপ্তানি হিস্যা বৃদ্ধি এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বাজারটির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে রপ্তানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে, জাপানের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের ইতিবাচক প্রবণতা আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে হলে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার হিস্যা ধরে রাখা এবং নতুন ক্রেতা আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪